ঢাকা ০৯:৪০ , Wed, ১৬ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়মে বড় পরিবর্তন, পরিবার নেওয়ায় কড়াকড়ি

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪১
  • / 5
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন কমাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা ও অস্থায়ী ভিসা ব্যবস্থায় কঠোর বিধিনিষেধ আনার পরিকল্পনা করছে সরকার ছবি: সংগৃহীত

ক্যানবেরা, ১৭ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে অস্ট্রেলিয়ার লেবার সরকার। নতুন ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য বা নির্ভরশীলদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার সুযোগ কার্যত বন্ধ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থায়ী ভিসার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে নেট অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনতে চায় সরকার।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বৃহস্পতিবার ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে সরকারের নতুন অভিবাসন নীতির বিস্তারিত তুলে ধরবেন। দীর্ঘদিন ধরে চাহিদাভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল অভিবাসন কর্মসূচিতে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোই এই সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য।

সরকারের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, নেট অভিবাসন বছরে প্রায় ৩ লাখের কাছাকাছি রয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অস্থায়ী ভিসার সংখ্যা কমানো, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর লোকজনকে অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে বাধ্য করা এবং এক ভিসা থেকে আরেক ভিসায় বারবার পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় দিক হলো পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসার সুযোগ। গত অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪২৭টি শিক্ষার্থী ভিসা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৫ হাজার ৯৯১টি ছিল নির্ভরশীল বা পরিবারের সদস্যদের জন্য। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে পরিবারের সদস্য ছাড়া একাই অস্ট্রেলিয়ায় যেতে হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া সরকার অস্থায়ী ভিসা ব্যবস্থার অন্যান্য ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান করা এবং নতুন ভিসার আবেদন করে দীর্ঘদিন থাকার প্রবণতা ঠেকানোর উদ্যোগ রয়েছে। সরকার মনে করছে, ভিসার উদ্দেশ্য শেষ হওয়ার পর যাদের অস্ট্রেলিয়ায় থাকার বৈধ পথ নেই, তাদের দ্রুত দেশ ছাড়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া সুরক্ষা বা আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও আপিলের মাধ্যমে দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সুযোগ নিয়েও সরকার কঠোর পদক্ষেপ বিবেচনা করেছে। এ ধরনের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে অনেক আবেদনকারী ব্রিজিং ভিসায় থেকে কাজ করার সুযোগ পান। সরকার এই ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে আপিল ও কাজের অধিকারেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে।

অভিবাসন ব্যবস্থায় সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও নতুন নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমানে অভিবাসন কর্মসূচির কিছু অংশ চাহিদাভিত্তিক হওয়ায় নির্দিষ্ট ভিসা শ্রেণিতে আবেদন ও অনুমোদনের সংখ্যা পরিবর্তিত হয়। নতুন ব্যবস্থায় কোন শ্রেণিতে কতজন অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করবে এবং অস্থায়ী ভিসাধারীদের অবস্থান কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সে বিষয়ে সরকারের হাতে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে অভিবাসন কমানোর এই উদ্যোগ নিয়ে ব্যবসায়ী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠন সতর্ক করেছে, দক্ষ কর্মীর প্রবেশে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে শ্রমবাজারে ঘাটতি তৈরি হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও তাদের পরিবারের প্রবেশের সুযোগ কমলে উচ্চশিক্ষা খাত এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা জানিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়েছে। সরকার বলছে, তাদের লক্ষ্য অভিবাসন ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করা নয়, বরং অস্থায়ী ভিসা ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত করা এবং নির্ধারিত অভিবাসন লক্ষ্যের মধ্যে রাখা। নেট অভিবাসন কমানোর এই পরিকল্পনার পাশাপাশি কোন খাতে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে, সেটিও সরকারের নীতিতে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

নতুন নীতির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের ঘোষণার পর আরও স্পষ্ট হবে। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের প্রবেশ সীমিত করা, অস্থায়ী ভিসার নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং ২০২৮ সালের মধ্যে নেট অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

❤️
👏
🙂
😞

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়মে বড় পরিবর্তন, পরিবার নেওয়ায় কড়াকড়ি

প্রকাশঃ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪১

ক্যানবেরা, ১৭ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে অস্ট্রেলিয়ার লেবার সরকার। নতুন ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য বা নির্ভরশীলদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার সুযোগ কার্যত বন্ধ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থায়ী ভিসার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে নেট অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনতে চায় সরকার।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বৃহস্পতিবার ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে সরকারের নতুন অভিবাসন নীতির বিস্তারিত তুলে ধরবেন। দীর্ঘদিন ধরে চাহিদাভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল অভিবাসন কর্মসূচিতে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোই এই সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য।

সরকারের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, নেট অভিবাসন বছরে প্রায় ৩ লাখের কাছাকাছি রয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অস্থায়ী ভিসার সংখ্যা কমানো, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর লোকজনকে অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে বাধ্য করা এবং এক ভিসা থেকে আরেক ভিসায় বারবার পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় দিক হলো পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসার সুযোগ। গত অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪২৭টি শিক্ষার্থী ভিসা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৫ হাজার ৯৯১টি ছিল নির্ভরশীল বা পরিবারের সদস্যদের জন্য। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে পরিবারের সদস্য ছাড়া একাই অস্ট্রেলিয়ায় যেতে হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া সরকার অস্থায়ী ভিসা ব্যবস্থার অন্যান্য ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান করা এবং নতুন ভিসার আবেদন করে দীর্ঘদিন থাকার প্রবণতা ঠেকানোর উদ্যোগ রয়েছে। সরকার মনে করছে, ভিসার উদ্দেশ্য শেষ হওয়ার পর যাদের অস্ট্রেলিয়ায় থাকার বৈধ পথ নেই, তাদের দ্রুত দেশ ছাড়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া সুরক্ষা বা আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও আপিলের মাধ্যমে দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সুযোগ নিয়েও সরকার কঠোর পদক্ষেপ বিবেচনা করেছে। এ ধরনের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে অনেক আবেদনকারী ব্রিজিং ভিসায় থেকে কাজ করার সুযোগ পান। সরকার এই ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে আপিল ও কাজের অধিকারেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে।

অভিবাসন ব্যবস্থায় সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও নতুন নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমানে অভিবাসন কর্মসূচির কিছু অংশ চাহিদাভিত্তিক হওয়ায় নির্দিষ্ট ভিসা শ্রেণিতে আবেদন ও অনুমোদনের সংখ্যা পরিবর্তিত হয়। নতুন ব্যবস্থায় কোন শ্রেণিতে কতজন অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করবে এবং অস্থায়ী ভিসাধারীদের অবস্থান কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সে বিষয়ে সরকারের হাতে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে অভিবাসন কমানোর এই উদ্যোগ নিয়ে ব্যবসায়ী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠন সতর্ক করেছে, দক্ষ কর্মীর প্রবেশে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে শ্রমবাজারে ঘাটতি তৈরি হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও তাদের পরিবারের প্রবেশের সুযোগ কমলে উচ্চশিক্ষা খাত এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা জানিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়েছে। সরকার বলছে, তাদের লক্ষ্য অভিবাসন ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করা নয়, বরং অস্থায়ী ভিসা ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত করা এবং নির্ধারিত অভিবাসন লক্ষ্যের মধ্যে রাখা। নেট অভিবাসন কমানোর এই পরিকল্পনার পাশাপাশি কোন খাতে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে, সেটিও সরকারের নীতিতে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

নতুন নীতির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের ঘোষণার পর আরও স্পষ্ট হবে। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের প্রবেশ সীমিত করা, অস্থায়ী ভিসার নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং ২০২৮ সালের মধ্যে নেট অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।