গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীকে মেসে ডেকে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ
- প্রকাশঃ ০৮:১৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
- / 73
সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) আইন বিভাগের প্রথম সেমেস্টারের শিক্ষার্থী শের আলীকে মেসে ডেকে নিয়ে সারারাত ধরে মারধর ও অপমানের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। সোমবার (২৫ নভেম্বর) রাতে পাথালিয়া ইউনিয়নের নলাম এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে আশুলিয়ার গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগ করা হয়েছে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী— অন্তু দেওয়ান, ২২তম ব্যাচ, মেহেদী হাসান, ২১তম ব্যাচ, আশরাফুল, ২২তম ব্যাচ, আসিফ লাবিব, ২৩তম ব্যাচ, চারজনই একই বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থী।
শের আলীর দাবি, সোমবার বিকেলে প্রথমে তাকে ও তার দুই বন্ধুকে এক সিনিয়রের বাসায় ডাকা হয়। কথাবার্তার একপর্যায়ে হুমকি পেয়ে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন। পরে রাত ৯টার দিকে ‘খিচুড়ি খাওয়ার’ কথা বলে আবার ডাকা হয়। খাবার শেষে অন্যদের বের করে দিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়।
এরপর রাত ৯টা থেকে ভোর পর্যন্ত তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। তিনি জানান, তাকে চড়–থাপ্পড়, লাথি, জোর করে এক পায়ে দাঁড় করানো, এমনকি কাপড় খুলিয়ে অপমান পর্যন্ত করা হয়। ভোরে ক্ষমা চাইলে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে শের আলীর মুখ, মাথা ও শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। সহপাঠীরা বলেন, সিনিয়রদের রুমে যাওয়ার কিছু সময় পরই শের আলীকে কান্নারত ও হতভম্ব অবস্থায় বের হতে দেখা যায়।
অন্তু দেওয়ান ও মেহেদী হাসান দাবি করেন, ‘মারধর নয়, কেবল শাসন করা হয়েছে।’ আসিফ লাবিব বলেন, তিনি ভেতরের ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না।
ঘটনার পর আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারাহ ইকবালকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানায়।























