ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একই মানিক মিয়া এভিনিউ, দুই ইতিহাস: সময় পেরোলেও বদলায়নি মানুষের আবেগ

মোসা: সাফা আক্তার
  • প্রকাশঃ ০২:১১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 113

একই মানিক মিয়া এভিনিউ—কিন্তু ব্যবধান কয়েক দশকের। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে; বদলায়নি মানুষের ঢল, শোক আর ইতিহাসের ছায়া। একদিন তিনি ছিলেন কিশোর, আজ প্রাপ্তবয়স্ক। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজায় কৈশোরে অংশ নেওয়া সালাউদ্দিন আলী মল্লিক আবারও দাঁড়িয়ে ছিলেন ইতিহাসের আরেক অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে—আপোষহীন দেশনেত্রী ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায়।

সালাউদ্দিন আলী মল্লিক স্মৃতিচারণ করে জানান, জিয়াউর রহমানের জানাজার দিনটি ছিল রোদ আর আবেগে ভেজা এক সময়। বয়স কম ছিল, রাজনীতি বোঝার মতো পরিপক্বতা তখনো আসেনি। তবে মানুষের ঢল দেখে তিনিও স্রোতের টানে ভেসে গিয়েছিলেন জানাজার কাতারে।

সেদিন মানিক মিয়া এভিনিউতে তিল ধরার জায়গা ছিল না, বলেন তিনি। কোনোমতে একটি মেশিনের বাক্সের ওপর উঠে দাঁড়িয়েছিলাম, শুধু এক ঝলক দেখার জন্য।

সে দিনের কৈশোরের স্মৃতি আজও তার মনে গেঁথে আছে। আর আজ, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় এসে সেই স্মৃতি যেন নতুন করে জীবন্ত হয়ে ওঠে। মানুষের কান্না, শোক আর ভালোবাসার ঢল তাকে ফিরিয়ে নেয় বহু বছর আগের সেই দিনে।

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক মানুষ ঢাকায় ছুটে আসেন। জানাজার স্থান ও আশপাশের এলাকা রূপ নেয় জনসমুদ্রে। ভিড়ের মধ্যে ছিলেন এমন বহু মানুষ, যারা একসময় জিয়াউর রহমানের জানাজাতেও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের কাছে এটি শুধু বিদায় নয়, বরং ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় একটি আবেগঘন মুহূর্ত।

সালাউদ্দিন আলী মল্লিক বলেন,
দুটি জানাজাই আলাদা সময়ের, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা একই রকম। আজ এখানে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, ইতিহাস যেন চোখের সামনে আবার লেখা হচ্ছে।

মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই প্রমাণ করে—বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন কোটি মানুষের আবেগ, সংগ্রাম ও বিশ্বাসের প্রতীক। সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর নাম ও স্মৃতি থেকে যাবে মানুষের হৃদয়ে, আর ইতিহাসের পাতায়।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

একই মানিক মিয়া এভিনিউ, দুই ইতিহাস: সময় পেরোলেও বদলায়নি মানুষের আবেগ

প্রকাশঃ ০২:১১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

একই মানিক মিয়া এভিনিউ—কিন্তু ব্যবধান কয়েক দশকের। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে; বদলায়নি মানুষের ঢল, শোক আর ইতিহাসের ছায়া। একদিন তিনি ছিলেন কিশোর, আজ প্রাপ্তবয়স্ক। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজায় কৈশোরে অংশ নেওয়া সালাউদ্দিন আলী মল্লিক আবারও দাঁড়িয়ে ছিলেন ইতিহাসের আরেক অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে—আপোষহীন দেশনেত্রী ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায়।

সালাউদ্দিন আলী মল্লিক স্মৃতিচারণ করে জানান, জিয়াউর রহমানের জানাজার দিনটি ছিল রোদ আর আবেগে ভেজা এক সময়। বয়স কম ছিল, রাজনীতি বোঝার মতো পরিপক্বতা তখনো আসেনি। তবে মানুষের ঢল দেখে তিনিও স্রোতের টানে ভেসে গিয়েছিলেন জানাজার কাতারে।

সেদিন মানিক মিয়া এভিনিউতে তিল ধরার জায়গা ছিল না, বলেন তিনি। কোনোমতে একটি মেশিনের বাক্সের ওপর উঠে দাঁড়িয়েছিলাম, শুধু এক ঝলক দেখার জন্য।

সে দিনের কৈশোরের স্মৃতি আজও তার মনে গেঁথে আছে। আর আজ, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় এসে সেই স্মৃতি যেন নতুন করে জীবন্ত হয়ে ওঠে। মানুষের কান্না, শোক আর ভালোবাসার ঢল তাকে ফিরিয়ে নেয় বহু বছর আগের সেই দিনে।

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক মানুষ ঢাকায় ছুটে আসেন। জানাজার স্থান ও আশপাশের এলাকা রূপ নেয় জনসমুদ্রে। ভিড়ের মধ্যে ছিলেন এমন বহু মানুষ, যারা একসময় জিয়াউর রহমানের জানাজাতেও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের কাছে এটি শুধু বিদায় নয়, বরং ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় একটি আবেগঘন মুহূর্ত।

সালাউদ্দিন আলী মল্লিক বলেন,
দুটি জানাজাই আলাদা সময়ের, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা একই রকম। আজ এখানে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, ইতিহাস যেন চোখের সামনে আবার লেখা হচ্ছে।

মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই প্রমাণ করে—বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন কোটি মানুষের আবেগ, সংগ্রাম ও বিশ্বাসের প্রতীক। সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর নাম ও স্মৃতি থেকে যাবে মানুষের হৃদয়ে, আর ইতিহাসের পাতায়।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”