ঢাকা ০৪:৫০ , Sat, ২৬ Sep ২০২৬

বুয়েট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, ভবিষ্যতের চিপ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় বাংলাদেশি বিজ্ঞানী মাসুদ এইচ. চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৭
  • / 3
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কম্পিউটিং ও চিপ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছেন বাংলাদেশি গবেষক ড. মাসুদ এইচ. চৌধুরী। ফাইল ছবি

কানসাস সিটি, ২৬ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে কম্পিউটার ও বৈদ্যুতিক প্রকৌশল গবেষণায় নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন ড. মাসুদ এইচ. চৌধুরী। বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি-কানসাস সিটির নতুন স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধীনে এনার্জি, ম্যাটার অ্যান্ড সিস্টেমস বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ড. চৌধুরীর গবেষণার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কম্পিউটিং ও চিপ প্রযুক্তি। প্রচলিত সিলিকনভিত্তিক প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা সামনে রেখে তিনি পোস্ট-সিলিকন প্রযুক্তি, জীবাণুবিয়োজ্য ইলেকট্রনিকস, মেমরিস্টর, বহুস্তরীয় যুক্তিব্যবস্থা, নমনীয় ইলেকট্রনিকস এবং পরিধানযোগ্য ন্যানো ডিভাইস নিয়ে গবেষণা করছেন।

তাঁর গবেষণার লক্ষ্য কম বিদ্যুৎ খরচে উচ্চগতির কম্পিউটিং ব্যবস্থা তৈরি করা। এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস এবং তারহীন সেন্সর নেটওয়ার্কের মতো ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ড. মাসুদ চৌধুরী ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০৪ সালে কম্পিউটার প্রকৌশলে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।

ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি-কানসাস সিটিতে বর্তমান দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি প্রতিষ্ঠানটির স্কুল অব কম্পিউটিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পাঁচ বছর সহযোগী ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে তিনি কম্পিউটার বিজ্ঞান ও বৈদ্যুতিক প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যানও ছিলেন।

গবেষণার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় নতুন গবেষক তৈরিতেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। তাঁর তত্ত্বাবধানে ১৫ জন পিএইচডি এবং ১১ জন থিসিসভিত্তিক মাস্টার্স শিক্ষার্থী তাদের গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া তাঁর প্রকাশিত গবেষণার মধ্যে দুটি বই, দুটি বইয়ের অধ্যায় এবং ১৮৩টি জার্নাল ও সম্মেলন প্রবন্ধ রয়েছে।

পেশাগত ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন ড. চৌধুরী। ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি আইইইইর ভিএলএসআই সিস্টেমস অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশনস কারিগরি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।

তরুণ প্রকৌশলীদের পরামর্শ ও দক্ষতা উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৭ সালে মিসৌরি সোসাইটি অব প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ার্সের কাছ থেকে তিনি লিপ পুরস্কার পান।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে যাত্রা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও একাডেমিক নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছেন ড. মাসুদ এইচ. চৌধুরী। তাঁর গবেষণার বিষয়গুলো বর্তমানে কম্পিউটিং, ন্যানোপ্রযুক্তি ও পরবর্তী প্রজন্মের ইলেকট্রনিকসের বিকাশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

❤️
👏
🙂
😞

বুয়েট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, ভবিষ্যতের চিপ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় বাংলাদেশি বিজ্ঞানী মাসুদ এইচ. চৌধুরী

প্রকাশঃ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৭

কানসাস সিটি, ২৬ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে কম্পিউটার ও বৈদ্যুতিক প্রকৌশল গবেষণায় নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন ড. মাসুদ এইচ. চৌধুরী। বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি-কানসাস সিটির নতুন স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধীনে এনার্জি, ম্যাটার অ্যান্ড সিস্টেমস বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ড. চৌধুরীর গবেষণার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কম্পিউটিং ও চিপ প্রযুক্তি। প্রচলিত সিলিকনভিত্তিক প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা সামনে রেখে তিনি পোস্ট-সিলিকন প্রযুক্তি, জীবাণুবিয়োজ্য ইলেকট্রনিকস, মেমরিস্টর, বহুস্তরীয় যুক্তিব্যবস্থা, নমনীয় ইলেকট্রনিকস এবং পরিধানযোগ্য ন্যানো ডিভাইস নিয়ে গবেষণা করছেন।

তাঁর গবেষণার লক্ষ্য কম বিদ্যুৎ খরচে উচ্চগতির কম্পিউটিং ব্যবস্থা তৈরি করা। এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস এবং তারহীন সেন্সর নেটওয়ার্কের মতো ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ড. মাসুদ চৌধুরী ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০৪ সালে কম্পিউটার প্রকৌশলে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।

ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি-কানসাস সিটিতে বর্তমান দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি প্রতিষ্ঠানটির স্কুল অব কম্পিউটিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পাঁচ বছর সহযোগী ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে তিনি কম্পিউটার বিজ্ঞান ও বৈদ্যুতিক প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যানও ছিলেন।

গবেষণার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় নতুন গবেষক তৈরিতেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। তাঁর তত্ত্বাবধানে ১৫ জন পিএইচডি এবং ১১ জন থিসিসভিত্তিক মাস্টার্স শিক্ষার্থী তাদের গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া তাঁর প্রকাশিত গবেষণার মধ্যে দুটি বই, দুটি বইয়ের অধ্যায় এবং ১৮৩টি জার্নাল ও সম্মেলন প্রবন্ধ রয়েছে।

পেশাগত ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন ড. চৌধুরী। ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি আইইইইর ভিএলএসআই সিস্টেমস অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশনস কারিগরি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।

তরুণ প্রকৌশলীদের পরামর্শ ও দক্ষতা উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৭ সালে মিসৌরি সোসাইটি অব প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ার্সের কাছ থেকে তিনি লিপ পুরস্কার পান।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে যাত্রা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও একাডেমিক নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছেন ড. মাসুদ এইচ. চৌধুরী। তাঁর গবেষণার বিষয়গুলো বর্তমানে কম্পিউটিং, ন্যানোপ্রযুক্তি ও পরবর্তী প্রজন্মের ইলেকট্রনিকসের বিকাশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।