জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা: সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ
- প্রকাশঃ ০৩:৩৬:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 21
জুলাই–আগস্টে কারফিউ জারি করে গণহত্যায় উসকানি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে আজ আদেশ ঘোষণার দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ৬ জানুয়ারি আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের অব্যাহতির আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর মক্কেলরা নির্দোষ এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
আসামিপক্ষ আরও দাবি করে, প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত ফোনালাপ সালমান ও আনিসুলের নয়। ভয়েস রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগের আবেদন জানানো হলেও ট্রাইব্যুনাল তা নাকচ করে দেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারের উসকানি, ষড়যন্ত্র এবং মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের সশস্ত্র হামলায় সাধারণ জনগণের প্রাণহানি। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সরাসরি যুক্ত ছিলেন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯ জুলাই ২০২৪ সালের এক ফোনালাপের এক পর্যায়ে তাঁরা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ‘ওদের শেষ করে দেওয়ার’ নির্দেশ দেন, যা আন্দোলন দমন এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ছিল।
গত ২২ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে সালমান ও আনিসুলের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড শোনানো হয়। একই সঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন জানান।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ গত ৪ ডিসেম্বর অভিযোগ গ্রহণ করেন এবং সেদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়।




























