পুলিশ কোনো দলের নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের সেবক: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
- প্রকাশঃ ০২:২৭:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / 62
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়; তারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী। পুলিশের মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন রক্ষা অনেকটাই মাঠপর্যায়ের পুলিশের আচরণের ওপর নির্ভর করে। জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া কেবল শক্তি প্রয়োগ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় শতভাগ নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো অনৈতিক সুবিধা বা আপ্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না এবং ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে রিটার্নিং কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ কোনো সাধারণ বাহিনী নয়। নতুন বাংলাদেশ গড়তে পুলিশের ভিত্তি হতে হবে জ্ঞান, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনবান্ধব সেবা।
তিনি দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দুর্নীতি প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে এবং জনগণের বিশ্বাস নষ্ট করে। কোনো পুলিশ সদস্য যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দায়িত্বচ্যুত হয়, তবে তা রাষ্ট্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইজিপি বাহারুল আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী বিপিএম।
২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী এই কুচকাওয়াজের মাধ্যমে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। বিভিন্ন ব্যাচের মোট ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী কুচকাওয়াজে অংশ নেন।
কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার ছিলেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ধীমান কুমার মন্ডল। বেস্ট প্রবেশনার নির্বাচিত হন মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। এছাড়া একাডেমিক, ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ, হর্সম্যানশিপ ও শ্যুটিং বিভাগে কৃতিত্বের স্বীকৃতি দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণার্থীদের।























