ঢাকা ১২:৩৭ , Mon, ২৭ Jul ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাজ্যে

যুক্তরাজ্যে পিআইপি সুবিধাভোগীদের জন্য ‘আরও সহায়তার’ ইঙ্গিত, কর্মসংস্থান নীতিতে পরিবর্তনের আভাস

এ্যানী রহমান
  • প্রকাশঃ ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯
  • / 2
যুক্তরাজ্যে পিআইপি সুবিধা ও কর্মসংস্থান নীতি নিয়ে পর্যালোচনার মধ্যে নতুন সহায়তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে গ্রাফিক্স: প্রজন্ম কথা

যুক্তরাজ্যে পার্সোনাল ইন্ডিপেনডেন্স পেমেন্ট (PIP) এবং অন্যান্য কর্মক্ষমতা-সম্পর্কিত সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা নিয়ে পর্যালোচনার মধ্যে কর্মসংস্থান সহায়তা ব্যবস্থায় আরও কার্যকর ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকারের সামনে বাড়তে থাকা বেনিফিট ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মক্ষম মানুষকে শ্রমবাজারে ফিরিয়ে আনার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম ‘নতুন রাজনৈতিক মডেল’ ও ‘নতুন অর্থনৈতিক মডেল’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে তাঁর সরকার কী ধরনের কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নীতি গ্রহণ করবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি আগামী দিনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। এক মিলিয়নেরও বেশি তরুণ শিক্ষা, চাকরি কিংবা প্রশিক্ষণের বাইরে অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে আগামী বছরগুলোতে সরকারি বেনিফিট খাতে ব্যয় আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন বেকার থাকা এবং বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তার মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইভ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনি ফিলিপস বলেন, কর্মসংস্থান সহায়তাকে কেবল চাকরি খোঁজার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলে হবে না। বরং এমন কর্মসূচিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যা মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে চাকরিতে স্থায়ী হতে সহায়তা করে।

তিনি বলেন, যেসব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বাস্তবে প্রশিক্ষণার্থীদের চাকরিতে প্রবেশ এবং কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার প্রমাণ দিতে পারে, সরকারি অর্থায়নে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

পিআইপি সুবিধাভোগীদের প্রসঙ্গে জনি ফিলিপস বলেন, প্রতিবন্ধিতা বা স্বাস্থ্যগত কারণে এই ভাতা গ্রহণকারী অনেক ব্যক্তিকে প্রায়ই ভুলভাবে মূল্যায়ন করা হয়। তাঁর মতে, কেউ পিআইপি পাচ্ছেন মানেই তিনি কাজ করতে অক্ষম, এমন ধারণা সঠিক নয়। তবে একই সঙ্গে কারও শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতার বাইরে কোনো কাজে বাধ্য করাও উচিত নয়।

তিনি ব্যক্তির সক্ষমতা অনুযায়ী উপযুক্ত চাকরি নির্বাচন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তা এবং নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার বর্তমানে পিআইপি ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের পর্যালোচনা পরিচালনা করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান কাঠামোতে পরিচালিত পিআইপি ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর ও সময়োপযোগী নয় এবং এতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

পিআইপি মূলত দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা বা প্রতিবন্ধিতার কারণে অতিরিক্ত জীবনযাত্রার ব্যয় বহনে সহায়তা করার জন্য দেওয়া হয়। এটি আয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। ফলে চাকরিতে থাকা ব্যক্তিরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে এই সুবিধা পেতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে কেবল বড় বিনিয়োগ বা শিল্পখাতের উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। শ্রমবাজারের বাইরে থাকা কিন্তু উপযুক্ত সহায়তা পেলে কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য কার্যকর নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, এতে সরকারি বেনিফিটের ওপর নির্ভরশীলতা কমার পাশাপাশি অর্থনীতিতে নতুন কর্মশক্তি যুক্ত হতে পারে। সরকার ইতোমধ্যে কর্মসংস্থান বাড়াতে বিভিন্ন অনুদানভিত্তিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ইয়ুথ গ্যারান্টি এবং গ্রোথ অ্যান্ড স্কিলস লেভি কর্মসূচির জন্য অর্থায়নও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অর্থ এমন ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহার করা উচিত, যাদের কেবল সিভি তৈরির প্রশিক্ষণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যগত বা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় নিবিড় সহায়তা প্রয়োজন। পিআইপি পর্যালোচনার ফলাফল এবং কর্মক্ষম প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য ভবিষ্যৎ সহায়তা কাঠামো কেমন হবে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাজ্যে পিআইপি সুবিধাভোগীদের জন্য ‘আরও সহায়তার’ ইঙ্গিত, কর্মসংস্থান নীতিতে পরিবর্তনের আভাস

প্রকাশঃ ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯

যুক্তরাজ্যে পার্সোনাল ইন্ডিপেনডেন্স পেমেন্ট (PIP) এবং অন্যান্য কর্মক্ষমতা-সম্পর্কিত সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা নিয়ে পর্যালোচনার মধ্যে কর্মসংস্থান সহায়তা ব্যবস্থায় আরও কার্যকর ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকারের সামনে বাড়তে থাকা বেনিফিট ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মক্ষম মানুষকে শ্রমবাজারে ফিরিয়ে আনার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম ‘নতুন রাজনৈতিক মডেল’ ও ‘নতুন অর্থনৈতিক মডেল’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে তাঁর সরকার কী ধরনের কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নীতি গ্রহণ করবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি আগামী দিনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। এক মিলিয়নেরও বেশি তরুণ শিক্ষা, চাকরি কিংবা প্রশিক্ষণের বাইরে অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে আগামী বছরগুলোতে সরকারি বেনিফিট খাতে ব্যয় আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন বেকার থাকা এবং বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তার মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইভ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনি ফিলিপস বলেন, কর্মসংস্থান সহায়তাকে কেবল চাকরি খোঁজার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলে হবে না। বরং এমন কর্মসূচিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যা মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে চাকরিতে স্থায়ী হতে সহায়তা করে।

তিনি বলেন, যেসব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বাস্তবে প্রশিক্ষণার্থীদের চাকরিতে প্রবেশ এবং কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার প্রমাণ দিতে পারে, সরকারি অর্থায়নে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

পিআইপি সুবিধাভোগীদের প্রসঙ্গে জনি ফিলিপস বলেন, প্রতিবন্ধিতা বা স্বাস্থ্যগত কারণে এই ভাতা গ্রহণকারী অনেক ব্যক্তিকে প্রায়ই ভুলভাবে মূল্যায়ন করা হয়। তাঁর মতে, কেউ পিআইপি পাচ্ছেন মানেই তিনি কাজ করতে অক্ষম, এমন ধারণা সঠিক নয়। তবে একই সঙ্গে কারও শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতার বাইরে কোনো কাজে বাধ্য করাও উচিত নয়।

তিনি ব্যক্তির সক্ষমতা অনুযায়ী উপযুক্ত চাকরি নির্বাচন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তা এবং নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার বর্তমানে পিআইপি ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের পর্যালোচনা পরিচালনা করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান কাঠামোতে পরিচালিত পিআইপি ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর ও সময়োপযোগী নয় এবং এতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

পিআইপি মূলত দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা বা প্রতিবন্ধিতার কারণে অতিরিক্ত জীবনযাত্রার ব্যয় বহনে সহায়তা করার জন্য দেওয়া হয়। এটি আয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। ফলে চাকরিতে থাকা ব্যক্তিরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে এই সুবিধা পেতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে কেবল বড় বিনিয়োগ বা শিল্পখাতের উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। শ্রমবাজারের বাইরে থাকা কিন্তু উপযুক্ত সহায়তা পেলে কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য কার্যকর নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, এতে সরকারি বেনিফিটের ওপর নির্ভরশীলতা কমার পাশাপাশি অর্থনীতিতে নতুন কর্মশক্তি যুক্ত হতে পারে। সরকার ইতোমধ্যে কর্মসংস্থান বাড়াতে বিভিন্ন অনুদানভিত্তিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ইয়ুথ গ্যারান্টি এবং গ্রোথ অ্যান্ড স্কিলস লেভি কর্মসূচির জন্য অর্থায়নও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অর্থ এমন ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহার করা উচিত, যাদের কেবল সিভি তৈরির প্রশিক্ষণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যগত বা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় নিবিড় সহায়তা প্রয়োজন। পিআইপি পর্যালোচনার ফলাফল এবং কর্মক্ষম প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য ভবিষ্যৎ সহায়তা কাঠামো কেমন হবে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।