ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুনানি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কারে ফের অনুমতি পেল ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১১:১০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / 4

গ্রাফিক্স: প্রজন্ম কথা


যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আবারও শুনানি ছাড়াই দ্রুত বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ফেডারেল আপিল আদালতের এক রায়ের ফলে দেশটির অভ্যন্তরে বসবাসরত অনেক অনথিভুক্ত অভিবাসীকেও এখন অভিবাসন বিচারকের সামনে পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ ছাড়াই দ্রুত বহিষ্কার করা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের যুক্তরাষ্ট্র আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ বাতিল করে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্প্রসারিত ‘এক্সপেডাইটেড রিমুভাল’ বা দ্রুত বহিষ্কার নীতি পুনরায় কার্যকর করার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

দ্রুত বহিষ্কার পদ্ধতিতে অভিবাসন আদালতে পূর্ণাঙ্গ শুনানি ছাড়াই কোনো ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো যায়। অতীতে এই ব্যবস্থা মূলত সীমান্তে আটক হওয়া বা সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হতো। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন নীতিটির পরিধি বাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবস্থানরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর করে।

নীতি কার্যকরের পর অভিবাসন-সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আদালতে উপস্থিত হওয়া অনেক ব্যক্তিকে আদালত চত্বর থেকেই আটক করে কয়েক দিনের মধ্যে বহিষ্কারের অভিযোগ ওঠে।

আপিল আদালতের রায়ের পর অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) অভিবাসী অধিকার প্রকল্পের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আনন্দ বালাকৃষ্ণন বলেন, এই নীতি এমন একটি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে যেখানে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি রয়েছে এবং অনেক অভিবাসী ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

তবে আপিল আদালতের বিচারক জাস্টিন আর ওয়াকার রায়ে উল্লেখ করেন, বাদীপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি যে সম্প্রসারিত দ্রুত বহিষ্কার নীতি সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং কেন নেওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে তাদের অবহিত করা হয়। পাশাপাশি তাদের জবাব দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়।

এর আগে নিম্ন আদালতের বিচারক জিয়া কব প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করে বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিরা যাতে ভুলবশত দ্রুত বহিষ্কারের শিকার না হন, সে জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি এমন কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে বসবাসকারী ব্যক্তিদেরও দ্রুত বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

যদিও আপিল আদালত স্বীকার করেছে যে কিছু ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে, তবে আদালতের মতে এসব ঘটনা নীতিগত বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে নয়; পৃথক কর্মকর্তাদের আইন অনুসরণে ব্যর্থতার ফল।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে দ্রুত বহিষ্কার ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বিচার বিভাগ আদালতে যুক্তি দেয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই নীতি প্রশাসনকে আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করবে।

অন্যদিকে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখো অভিবাসীর মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে। তাদের মতে, বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায় ভুলবশত বহিষ্কারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।

শেয়ার করুন

শুনানি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কারে ফের অনুমতি পেল ট্রাম্প প্রশাসন

প্রকাশঃ ১১:১০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

গ্রাফিক্স: প্রজন্ম কথা


যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আবারও শুনানি ছাড়াই দ্রুত বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ফেডারেল আপিল আদালতের এক রায়ের ফলে দেশটির অভ্যন্তরে বসবাসরত অনেক অনথিভুক্ত অভিবাসীকেও এখন অভিবাসন বিচারকের সামনে পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ ছাড়াই দ্রুত বহিষ্কার করা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের যুক্তরাষ্ট্র আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ বাতিল করে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্প্রসারিত ‘এক্সপেডাইটেড রিমুভাল’ বা দ্রুত বহিষ্কার নীতি পুনরায় কার্যকর করার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

দ্রুত বহিষ্কার পদ্ধতিতে অভিবাসন আদালতে পূর্ণাঙ্গ শুনানি ছাড়াই কোনো ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো যায়। অতীতে এই ব্যবস্থা মূলত সীমান্তে আটক হওয়া বা সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হতো। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন নীতিটির পরিধি বাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবস্থানরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর করে।

নীতি কার্যকরের পর অভিবাসন-সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আদালতে উপস্থিত হওয়া অনেক ব্যক্তিকে আদালত চত্বর থেকেই আটক করে কয়েক দিনের মধ্যে বহিষ্কারের অভিযোগ ওঠে।

আপিল আদালতের রায়ের পর অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) অভিবাসী অধিকার প্রকল্পের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আনন্দ বালাকৃষ্ণন বলেন, এই নীতি এমন একটি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে যেখানে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি রয়েছে এবং অনেক অভিবাসী ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

তবে আপিল আদালতের বিচারক জাস্টিন আর ওয়াকার রায়ে উল্লেখ করেন, বাদীপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি যে সম্প্রসারিত দ্রুত বহিষ্কার নীতি সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং কেন নেওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে তাদের অবহিত করা হয়। পাশাপাশি তাদের জবাব দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়।

এর আগে নিম্ন আদালতের বিচারক জিয়া কব প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করে বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিরা যাতে ভুলবশত দ্রুত বহিষ্কারের শিকার না হন, সে জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি এমন কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে বসবাসকারী ব্যক্তিদেরও দ্রুত বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

যদিও আপিল আদালত স্বীকার করেছে যে কিছু ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে, তবে আদালতের মতে এসব ঘটনা নীতিগত বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে নয়; পৃথক কর্মকর্তাদের আইন অনুসরণে ব্যর্থতার ফল।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে দ্রুত বহিষ্কার ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বিচার বিভাগ আদালতে যুক্তি দেয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই নীতি প্রশাসনকে আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করবে।

অন্যদিকে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখো অভিবাসীর মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে। তাদের মতে, বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায় ভুলবশত বহিষ্কারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।