যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে ৫০ দেশের ১৫০ অভিবাসীর মার্কিন নাগরিকত্ব, তালিকায় বাংলাদেশিও
- প্রকাশঃ ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০:০৭
- / 10
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে বিশ্বের ৫০টি দেশের ১৫০ জন অভিবাসী আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। নতুন নাগরিকদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশি অভিবাসী আনিতা নওশীনও। ইতিহাস, আবেগ এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অনন্য মিলনমেলায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, শনিবার (৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক বাসভবন মাউন্ট ভার্ননে এই বিশেষ নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা দিবস এবং দেশের ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবেই আয়োজনটি করা হয়। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ নেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে একে একে নতুন নাগরিকদের জন্মভূমির নাম ঘোষণা করা হয়। প্রতিটি দেশের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাঁড়িয়ে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেন। বাংলাদেশের নাম ঘোষণা করা হলে বাংলাদেশি অভিবাসী আনিতা নওশীন দাঁড়িয়ে উপস্থিত সবার অভিনন্দন গ্রহণ করেন। সেই মুহূর্তে তিনিও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নাগরিকদের কাতারে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন।
এপি প্রকাশিত ছবি ও প্রতিবেদনে দেখা যায়, শপথ গ্রহণের সময় বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা আনন্দ, আবেগ ও গর্বের মুহূর্ত ভাগ করে নেন। অনেকের হাতে ছিল নিজ দেশের পতাকা, আবার অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা হাতে নিয়ে নতুন জীবনের সূচনাকে উদযাপন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে আলোচনায় আসেন গিনিতে জন্ম নেওয়া মার্কিন মেরিন সার্জেন্ট ডিয়াকারিয়া সাঙ্গারে। সামরিক পোশাক পরেই তিনি নাগরিকত্বের শপথ গ্রহণ করেন, যা উপস্থিত অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইতিহাসবিদ ডগলাস ব্র্যাডবার্ন। তিনি বলেন, নতুন নাগরিকদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত গল্প এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে আমেরিকার ইতিহাসও তাদের নিজস্ব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জর্জ ওয়াশিংটনের চরিত্রে অভিনয় করা এক ঐতিহাসিক পুনর্নির্মাণ শিল্পী নতুন নাগরিকদের স্বাগত জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নাগরিক দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আয়োজকদের মতে, এই নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠান শুধু নতুন নাগরিকদের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক সমাজ, অভিবাসীদের অবদান এবং স্বাধীনতার ২৫০ বছরের দীর্ঘ যাত্রার প্রতীক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।


























