কত টাকার মালিক প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস? জানা গেল সব সম্পদের হিসাব
- প্রকাশঃ ০৮:৪৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 79
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি: বাসস
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মোট পরিসম্পদের পরিমাণ ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা। এক বছর আগে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার ৩৯২ টাকা।
সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস জানিয়েছেন, সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী ও মেয়াদি আমানতে অর্থ বৃদ্ধি এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ারসহ বিভিন্ন কারণে তাঁর মোট সম্পদ বেড়েছে।
প্রকাশিত বিবরণী অনুযায়ী, অধ্যাপক ইউনূসের আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ১৪ কোটি ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪০১ টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ১৩ কোটি ১৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৩৩ টাকা। তাঁর নন–ফাইনান্সিয়াল সম্পদের পরিমাণ ২১ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২০ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা। দেশের বাইরে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৪ টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৪০ টাকা।
প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের মোট পরিসম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকা। আগের অর্থবছরে তাঁর মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে তাঁর সম্পদ কমেছে ৮৪ লাখ ১৩ হাজার ৯১৪ টাকা।
আফরোজী ইউনূসের সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, তাঁর আর্থিক সম্পদ রয়েছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৮৬০ টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ৯৫ লাখ ৪১ হাজার ৬৭৯ টাকা। তাঁর নন–ফাইনান্সিয়াল সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৩ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১ কোটি ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯৫ টাকা। তাঁর বিদেশে কোনো সম্পদ নেই। অধ্যাপক ইউনূসের কোনো দায় না থাকলেও তাঁর স্ত্রীর ১৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকার দায় রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৩ সালের আয়কর আইন প্রণয়নের সময় আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুসারে ব্যক্তির সম্পদের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়। আইন অনুযায়ী, একজন করদাতার মালিকানাধীন স্থাবর-অস্থাবর, আর্থিক ও মূলধনি সম্পত্তির সমষ্টিকেই পরিসম্পদ বলা হয়। আর্থিক সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, বিভিন্ন শেয়ার ও কোম্পানি থেকে পাওয়া লভ্যাংশ। নন–ফাইনান্সিয়াল সম্পদের মধ্যে রয়েছে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লটসহ সব ধরনের স্থাবর সম্পদ।
২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন, সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের আয় ও সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করবেন এবং পর্যায়ক্রমে এটি সরকারি সব কর্মকর্তার জন্য নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে। একই সঙ্গে সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ন্যায়পাল নিয়োগে অধ্যাদেশ প্রণয়নের কথাও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
এর পর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪’ জারি করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাঁদের আয় ও সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন। স্ত্রী বা স্বামীর পৃথক আয় থাকলে সেটিও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে এই বিবরণী প্রকাশ করবেন।
দীর্ঘদিন বিবরণী প্রকাশ না হওয়ায় সমালোচনা তৈরি হলে গতকাল সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, দুই এক দিনের মধ্যেই উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হবে। এর ধারাবাহিকতায় আজ সব উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হলো।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরে কয়েক দফায় নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা ২১। এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রয়েছেন চারজন। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চার বিশেষ সহকারী দায়িত্ব পালন করছেন। আজ তাঁদের সবার সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে।
















