ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক বিন জিয়াদ প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক মসজিদ: মরক্কোর শেফশাউনে ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলাম প্রচারের কেন্দ্র

ধর্ম ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৩:২০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 3

মরক্কোর শেফশাউন প্রদেশের শারাফাত গ্রামে অবস্থিত তারেক বিন জিয়াদ মসজিদ ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলাম প্রচারের ঐতিহাসিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তৎকালীন টাঙ্গিয়ারের গভর্নর ও মুসলিম সেনাপতি তারেক বিন জিয়াদ ৮৫ হিজরি তথা ৭০৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে মসজিদটি নিরবচ্ছিন্নভাবে নিয়মিত নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি মহাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় নির্মিত মসজিদ হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘ সময় ধরে মসজিদ সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা থেকে অসংখ্য আলেম, ইসলামিক গবেষক ও দায়ী তৈরি হয়েছেন।

মসজিদটির সাদা ও নীল রঙের মিনার এবং লাল টালির ছাদ রয়েছে। স্থাপত্যশৈলীকে মনোরম হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এর পাশেই কিছু প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যা সংস্কারের আগে মূল মসজিদের অংশ ছিল বলে ধারণা করা হয়। আন্দালুস বা স্পেন বিজয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রার আগে তারেক বিন জিয়াদ টাঙ্গিয়ারের শাসন পরিচালনার সময়কার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে এটি বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে মসজিদে সব বয়সের শিক্ষার্থীদের কোরআন হিফজ শিক্ষা দেওয়া হয়ে আসছে। স্প্যানিশ উপনিবেশ আমলে এই অঞ্চলে মসজিদটির প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়। সে সময় দূরদূরান্ত থেকে আসা দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খাবারের ব্যয় স্থানীয় কিছু পরিবার বহন করত, যা স্থানীয় ভাষায় ‘মারুফ’ নামে পরিচিত ছিল। এই পরিবারগুলো সওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করত এবং শিক্ষার্থীরা মসজিদের ছাত্রাবাসে থাকার সুযোগ পেত।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটি শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি স্প্যানিশ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে মরক্কোর স্বাধীনতা সংগ্রামে রাজনৈতিক ও সামরিক ভূমিকা রাখে। ১৯২০-এর দশকে স্থানীয় স্বাধীনতাকামী ব্যক্তিরা মসজিদের আঙিনায় বসে স্প্যানিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিকল্পনা করেন। এখান থেকেই ঐতিহাসিক আল কুল্লা যুদ্ধ পরিচালিত হয়, যেখানে ঔপনিবেশিক বাহিনী ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে।

মারুফ প্রথার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহায়তা

ফরাসি উপনিবেশকালেও মসজিদটি উত্তরাঞ্চলের শিশু ও যুবকদের শিক্ষা কেন্দ্র ছিল। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে কোরআন হিফজ শিক্ষার্থীদের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এটি ব্যবহৃত হতো। প্রধান শিক্ষক তক্তায় কোরআনের আয়াত লিখে দিতেন এবং শিক্ষার্থীরা সমস্বরে তা তিলাওয়াত করতেন।

সাবেক শিক্ষার্থী মুহাম্মদ রাইয়ান জানান, শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল ছিলেন। সে ক্ষেত্রে শিক্ষক স্থানীয় কিছু পরিবারের তালিকা অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করতেন। এই ব্যবস্থাই মারুফ নামে পরিচিত ছিল। পরিবারগুলো বিভিন্ন গ্রাম থেকে এসে শিক্ষার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা করত এবং থাকার দায়িত্বও নিত।

ইলম ও আলেমদের কেন্দ্র

মসজিদটি দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামি শিক্ষা, আরবি ভাষা, আকাইদ, সুন্নাহ, ফিকহ, তাফসির, ব্যাকরণ, সুফি মতবাদ ও তাজবিদ শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শারাফাত গ্রামে একসঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী ইলম অর্জনের জন্য আসতেন।

মসজিদের আঙিনায় নিয়মিত শিক্ষাসভা অনুষ্ঠিত হতো, যেখানে আলেমরা ইবনে মালিকের আলফিয়াহসহ বিভিন্ন গ্রন্থ পাঠ ও ব্যাখ্যা দিতেন। সালকাহ নামে পরিচিত একটি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে দলগতভাবে কোরআন খতম সম্পন্ন করা হতো, যা মরক্কো ও আলজেরিয়ার ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ।

সাবেক শিক্ষার্থীদের তথ্য অনুযায়ী, এই মসজিদ থেকে বহু আলেম বের হয়েছেন যারা পরবর্তী সময়ে শরিয়াহ, সাহিত্য ও বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

তারেক বিন জিয়াদের নির্মাণ ও সামরিক প্রেক্ষাপট

শেফশাউনের শারাফাত এলাকা রিফ পর্বতমালার দুই পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে তারেক বিন জিয়াদের সেনাবাহিনীর সমাবেশস্থল হিসেবে অঞ্চলটি ব্যবহৃত হয়।

সেনাশিবিরে অবস্থানের সময় সৈন্য ও স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের পর মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দেয়। এরপর তারেক বিন জিয়াদ নিজ সেনা ও স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

ঐতিহাসিক বর্ণনায় বলা হয়, উত্তর মরক্কোয় ইসলাম প্রচার ও আন্দালুস বিজয়ের প্রেক্ষাপটে তারেক বিন জিয়াদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। স্থানীয় জনগোষ্ঠীও তার নেতৃত্বে বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমে যুক্ত হন।

জিহাদ ও সামাজিক ভূমিকা

স্থানীয় বর্ণনা অনুযায়ী, মসজিদটি আন্দালুস বিজয়ের একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। মালেকি মাজহাবের প্রচার ও দাওয়াতি কার্যক্রমে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উপনিবেশকালেও মসজিদটি প্রতিরোধ আন্দোলনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন স্থানীয় পরিবার ও স্বাধীনতাকামী ব্যক্তিরা এখানে সমবেত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেন।

বর্তমান অবস্থা

মসজিদটি ১৮৮৬ সালে মরক্কোর সুলতান মৌলে হাসান আল-আউয়াল এবং ১৯৬২ সালে রাজা দ্বিতীয় হাসান পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে এর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হয় এবং উন্মুক্ত জ্ঞানচর্চার আসর পুনরায় চালু করা হয়।

২০১৯ সালে মরক্কোর সংস্কৃতি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় মসজিদটিকে জাতীয় ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। একই বছরে ধর্মীয় ইনস্টিটিউটটি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানানো হয়। ফলে দীর্ঘদিনের শিক্ষা কার্যক্রমে বিরতি ঘটে।

সাবেক শিক্ষার্থী রাইয়ান এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান যথাযথ স্বীকৃতি ও মনোযোগ পায়নি এবং এর কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শেয়ার করুন

তারেক বিন জিয়াদ প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক মসজিদ: মরক্কোর শেফশাউনে ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলাম প্রচারের কেন্দ্র

প্রকাশঃ ০৩:২০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

মরক্কোর শেফশাউন প্রদেশের শারাফাত গ্রামে অবস্থিত তারেক বিন জিয়াদ মসজিদ ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলাম প্রচারের ঐতিহাসিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তৎকালীন টাঙ্গিয়ারের গভর্নর ও মুসলিম সেনাপতি তারেক বিন জিয়াদ ৮৫ হিজরি তথা ৭০৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে মসজিদটি নিরবচ্ছিন্নভাবে নিয়মিত নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি মহাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় নির্মিত মসজিদ হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘ সময় ধরে মসজিদ সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা থেকে অসংখ্য আলেম, ইসলামিক গবেষক ও দায়ী তৈরি হয়েছেন।

মসজিদটির সাদা ও নীল রঙের মিনার এবং লাল টালির ছাদ রয়েছে। স্থাপত্যশৈলীকে মনোরম হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এর পাশেই কিছু প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যা সংস্কারের আগে মূল মসজিদের অংশ ছিল বলে ধারণা করা হয়। আন্দালুস বা স্পেন বিজয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রার আগে তারেক বিন জিয়াদ টাঙ্গিয়ারের শাসন পরিচালনার সময়কার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে এটি বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে মসজিদে সব বয়সের শিক্ষার্থীদের কোরআন হিফজ শিক্ষা দেওয়া হয়ে আসছে। স্প্যানিশ উপনিবেশ আমলে এই অঞ্চলে মসজিদটির প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়। সে সময় দূরদূরান্ত থেকে আসা দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খাবারের ব্যয় স্থানীয় কিছু পরিবার বহন করত, যা স্থানীয় ভাষায় ‘মারুফ’ নামে পরিচিত ছিল। এই পরিবারগুলো সওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করত এবং শিক্ষার্থীরা মসজিদের ছাত্রাবাসে থাকার সুযোগ পেত।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটি শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি স্প্যানিশ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে মরক্কোর স্বাধীনতা সংগ্রামে রাজনৈতিক ও সামরিক ভূমিকা রাখে। ১৯২০-এর দশকে স্থানীয় স্বাধীনতাকামী ব্যক্তিরা মসজিদের আঙিনায় বসে স্প্যানিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিকল্পনা করেন। এখান থেকেই ঐতিহাসিক আল কুল্লা যুদ্ধ পরিচালিত হয়, যেখানে ঔপনিবেশিক বাহিনী ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে।

মারুফ প্রথার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহায়তা

ফরাসি উপনিবেশকালেও মসজিদটি উত্তরাঞ্চলের শিশু ও যুবকদের শিক্ষা কেন্দ্র ছিল। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে কোরআন হিফজ শিক্ষার্থীদের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এটি ব্যবহৃত হতো। প্রধান শিক্ষক তক্তায় কোরআনের আয়াত লিখে দিতেন এবং শিক্ষার্থীরা সমস্বরে তা তিলাওয়াত করতেন।

সাবেক শিক্ষার্থী মুহাম্মদ রাইয়ান জানান, শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল ছিলেন। সে ক্ষেত্রে শিক্ষক স্থানীয় কিছু পরিবারের তালিকা অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করতেন। এই ব্যবস্থাই মারুফ নামে পরিচিত ছিল। পরিবারগুলো বিভিন্ন গ্রাম থেকে এসে শিক্ষার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা করত এবং থাকার দায়িত্বও নিত।

ইলম ও আলেমদের কেন্দ্র

মসজিদটি দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামি শিক্ষা, আরবি ভাষা, আকাইদ, সুন্নাহ, ফিকহ, তাফসির, ব্যাকরণ, সুফি মতবাদ ও তাজবিদ শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শারাফাত গ্রামে একসঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী ইলম অর্জনের জন্য আসতেন।

মসজিদের আঙিনায় নিয়মিত শিক্ষাসভা অনুষ্ঠিত হতো, যেখানে আলেমরা ইবনে মালিকের আলফিয়াহসহ বিভিন্ন গ্রন্থ পাঠ ও ব্যাখ্যা দিতেন। সালকাহ নামে পরিচিত একটি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে দলগতভাবে কোরআন খতম সম্পন্ন করা হতো, যা মরক্কো ও আলজেরিয়ার ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ।

সাবেক শিক্ষার্থীদের তথ্য অনুযায়ী, এই মসজিদ থেকে বহু আলেম বের হয়েছেন যারা পরবর্তী সময়ে শরিয়াহ, সাহিত্য ও বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

তারেক বিন জিয়াদের নির্মাণ ও সামরিক প্রেক্ষাপট

শেফশাউনের শারাফাত এলাকা রিফ পর্বতমালার দুই পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে তারেক বিন জিয়াদের সেনাবাহিনীর সমাবেশস্থল হিসেবে অঞ্চলটি ব্যবহৃত হয়।

সেনাশিবিরে অবস্থানের সময় সৈন্য ও স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের পর মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দেয়। এরপর তারেক বিন জিয়াদ নিজ সেনা ও স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

ঐতিহাসিক বর্ণনায় বলা হয়, উত্তর মরক্কোয় ইসলাম প্রচার ও আন্দালুস বিজয়ের প্রেক্ষাপটে তারেক বিন জিয়াদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। স্থানীয় জনগোষ্ঠীও তার নেতৃত্বে বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমে যুক্ত হন।

জিহাদ ও সামাজিক ভূমিকা

স্থানীয় বর্ণনা অনুযায়ী, মসজিদটি আন্দালুস বিজয়ের একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। মালেকি মাজহাবের প্রচার ও দাওয়াতি কার্যক্রমে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উপনিবেশকালেও মসজিদটি প্রতিরোধ আন্দোলনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন স্থানীয় পরিবার ও স্বাধীনতাকামী ব্যক্তিরা এখানে সমবেত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেন।

বর্তমান অবস্থা

মসজিদটি ১৮৮৬ সালে মরক্কোর সুলতান মৌলে হাসান আল-আউয়াল এবং ১৯৬২ সালে রাজা দ্বিতীয় হাসান পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে এর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হয় এবং উন্মুক্ত জ্ঞানচর্চার আসর পুনরায় চালু করা হয়।

২০১৯ সালে মরক্কোর সংস্কৃতি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় মসজিদটিকে জাতীয় ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। একই বছরে ধর্মীয় ইনস্টিটিউটটি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানানো হয়। ফলে দীর্ঘদিনের শিক্ষা কার্যক্রমে বিরতি ঘটে।

সাবেক শিক্ষার্থী রাইয়ান এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান যথাযথ স্বীকৃতি ও মনোযোগ পায়নি এবং এর কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।