ঢাকা ০৯:১৮ , Sat, ১৭ Oct ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

এইচ-১বি ভিসায় ন্যূনতম বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব রিপাবলিকানদের

মুশফিকুর রহমান
  • প্রকাশঃ ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২৪
  • / 8
এইচ-১বি ভিসায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতনসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন, ১৭ অক্টোবর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতনের সীমা বছরে ৬০ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব দিয়েছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। নতুন এ বিলের লক্ষ্য, এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলো যেন তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ নিয়ে মার্কিন কর্মীদের নিয়োগসংক্রান্ত সুরক্ষা এড়িয়ে যেতে না পারে।

উইসকনসিনের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য গ্লেন গ্রথম্যান ‘প্রোটেক্টিং আমেরিকান ওয়ার্কার্স থ্রু এইচ-১বি মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট’ নামে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেছেন। একই ধরনের একটি বিল সিনেটে উত্থাপন করেছেন ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেড।

গ্রথম্যান বলেন, নিজ দেশে মার্কিন কর্মীদের অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। তাঁর ভাষ্য, প্রায় তিন দশক আগে নির্ধারিত বেতনসীমা অপরিবর্তিত থাকায় কিছু নিয়োগকর্তা যোগ্য মার্কিন কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য সুরক্ষা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নতুন বিলের মাধ্যমে বেতনসীমা হালনাগাদ করে মার্কিন কর্মীদের সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করতে চান তাঁরা।

হাস্টেড বলেন, ১৯৯৮ সালের পর থেকে বেতনসীমা অপরিবর্তিত থাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের নিয়োগের বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যেতে পারছে। তাঁর মতে, প্রস্তাবিত আইনটি এ সুযোগ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে তৈরি।

বর্তমান নিয়মে বেতনসীমা ৬০ হাজার ডলার

বর্তমান আইনে, যেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে এইচ-১বি ভিসাধারীদের অংশ নির্দিষ্ট সীমার বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের আগে যোগ্য মার্কিন কর্মীদের নিয়োগের চেষ্টা করার শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে বছরে অন্তত ৬০ হাজার ডলার বেতন পাওয়া কর্মী কিংবা স্নাতকোত্তর বা তার চেয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী কর্মীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে এ বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়।

১৯৯৮ সালে নির্ধারিত ৬০ হাজার ডলারের সীমাটি তখনকার সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের জাতীয় গড় মজুরি সূচকের প্রায় দ্বিগুণ ছিল। এরপর মূল্যস্ফীতি বা মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সীমাটি আর পরিবর্তন করা হয়নি।

রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওই সূচক প্রায় ৭০ হাজার ডলার। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান মজুরির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগের সীমাটি পুনর্নির্ধারণ করলে তা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে দাঁড়ায়।

প্রস্তাব পাস হলে কী পরিবর্তন হবে?

বিলটি পাস হলে নির্দিষ্ট ৬০ হাজার ডলারের পরিবর্তে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের জাতীয় গড় মজুরি সূচকের দ্বিগুণকে বেতনসীমা হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ফলে ভবিষ্যতে গড় মজুরি বাড়লে এই সীমাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বিত হবে।

তবে প্রস্তাবটি এখনো আইন হিসেবে অনুমোদিত হয়নি। এটি পাস হলেও সব এইচ-১বি ভিসাধারীর বেতন বছরে ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার হয়ে যাবে, এমন নয়। মূল পরিবর্তনটি হবে নির্দিষ্ট নিয়োগ-সুরক্ষা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য প্রযোজ্য বেতনসীমায়। ফলে বিলটির প্রভাব নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ধরন, কর্মীর যোগ্যতা এবং আইনের নির্ধারিত শর্তের ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন বিলটি অবশ্য কর্মসূচি বাতিলের প্রস্তাব নয়; বরং নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত কঠোর করার উদ্যোগ।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

❤️
👏
🙂
😞

এইচ-১বি ভিসায় ন্যূনতম বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব রিপাবলিকানদের

প্রকাশঃ ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২৪

ওয়াশিংটন, ১৭ অক্টোবর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতনের সীমা বছরে ৬০ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব দিয়েছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। নতুন এ বিলের লক্ষ্য, এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলো যেন তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ নিয়ে মার্কিন কর্মীদের নিয়োগসংক্রান্ত সুরক্ষা এড়িয়ে যেতে না পারে।

উইসকনসিনের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য গ্লেন গ্রথম্যান ‘প্রোটেক্টিং আমেরিকান ওয়ার্কার্স থ্রু এইচ-১বি মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট’ নামে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেছেন। একই ধরনের একটি বিল সিনেটে উত্থাপন করেছেন ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেড।

গ্রথম্যান বলেন, নিজ দেশে মার্কিন কর্মীদের অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। তাঁর ভাষ্য, প্রায় তিন দশক আগে নির্ধারিত বেতনসীমা অপরিবর্তিত থাকায় কিছু নিয়োগকর্তা যোগ্য মার্কিন কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য সুরক্ষা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নতুন বিলের মাধ্যমে বেতনসীমা হালনাগাদ করে মার্কিন কর্মীদের সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করতে চান তাঁরা।

হাস্টেড বলেন, ১৯৯৮ সালের পর থেকে বেতনসীমা অপরিবর্তিত থাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের নিয়োগের বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যেতে পারছে। তাঁর মতে, প্রস্তাবিত আইনটি এ সুযোগ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে তৈরি।

বর্তমান নিয়মে বেতনসীমা ৬০ হাজার ডলার

বর্তমান আইনে, যেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে এইচ-১বি ভিসাধারীদের অংশ নির্দিষ্ট সীমার বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের আগে যোগ্য মার্কিন কর্মীদের নিয়োগের চেষ্টা করার শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে বছরে অন্তত ৬০ হাজার ডলার বেতন পাওয়া কর্মী কিংবা স্নাতকোত্তর বা তার চেয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী কর্মীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে এ বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়।

১৯৯৮ সালে নির্ধারিত ৬০ হাজার ডলারের সীমাটি তখনকার সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের জাতীয় গড় মজুরি সূচকের প্রায় দ্বিগুণ ছিল। এরপর মূল্যস্ফীতি বা মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সীমাটি আর পরিবর্তন করা হয়নি।

রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওই সূচক প্রায় ৭০ হাজার ডলার। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান মজুরির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগের সীমাটি পুনর্নির্ধারণ করলে তা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে দাঁড়ায়।

প্রস্তাব পাস হলে কী পরিবর্তন হবে?

বিলটি পাস হলে নির্দিষ্ট ৬০ হাজার ডলারের পরিবর্তে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের জাতীয় গড় মজুরি সূচকের দ্বিগুণকে বেতনসীমা হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ফলে ভবিষ্যতে গড় মজুরি বাড়লে এই সীমাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বিত হবে।

তবে প্রস্তাবটি এখনো আইন হিসেবে অনুমোদিত হয়নি। এটি পাস হলেও সব এইচ-১বি ভিসাধারীর বেতন বছরে ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার হয়ে যাবে, এমন নয়। মূল পরিবর্তনটি হবে নির্দিষ্ট নিয়োগ-সুরক্ষা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য প্রযোজ্য বেতনসীমায়। ফলে বিলটির প্রভাব নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ধরন, কর্মীর যোগ্যতা এবং আইনের নির্ধারিত শর্তের ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন বিলটি অবশ্য কর্মসূচি বাতিলের প্রস্তাব নয়; বরং নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত কঠোর করার উদ্যোগ।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া