ঢাকা ১২:১৩ , Wed, ০৪ Nov ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

তদন্ত ও বিতর্কের মধ্যেও পঞ্চমবার কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত ইলহান ওমর

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৬
  • / 7
মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেসনাল আসনে জয়ী হয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট ইলহান ওমর। ছবি: সংগৃহীত

মিনিয়াপোলিস, ৪ নভেম্বর (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের পঞ্চম কংগ্রেসনাল আসন থেকে টানা পঞ্চমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ইলহান ওমর। রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেলকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন তিনি। নির্বাচনের আগে অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তের মুখে ছিলেন এই কংগ্রেস সদস্য।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ওমরের জয় নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। বুধবার (৪ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে তিনি পেয়েছেন ৭৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ ভোট, অর্থাৎ ২ লাখ ৬৩ হাজার ১৬৬টি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেল পেয়েছেন ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ ভোট, অর্থাৎ ৫৫ হাজার ৮০৫টি।

মিনিয়াপোলিস ও আশপাশের শহরতলি নিয়ে গঠিত এই আসনটি মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটদের শক্তিশালী নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত। ২০১৯ সাল থেকে আসনটির প্রতিনিধিত্ব করছেন ওমর। গত আগস্টে দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনেও জয় পান তিনি। মে মাসে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক-ফার্মার-লেবার পার্টির রাজ্য সম্মেলনেও তাঁর প্রতি সমর্থন জানানো হয়।

সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান ওমর দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের লক্ষ্যবস্তু। এর আগে ট্রাম্প তাঁকে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। তাঁকে ‘আবর্জনা’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন।

নির্বাচনের আগে ওমরকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয় তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে ফেডারেল তদন্তের কারণে। গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর বাসায় তল্লাশি চালান যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তদন্তকারীরা। মার্কিন বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানার ভিত্তিতে এই তল্লাশি চালানো হয়। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তটি ওমরের শৈশবে তাঁর প্রয়াত বাবার পূরণ করা অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র ঘিরে।

তল্লাশির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ওমর ঘটনাটিকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করতে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহারের নজিরবিহীন পদক্ষেপ বলে সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছেন। ওমরের কার্যালয়ও জানিয়েছে, তিনি কোনো অন্যায় করেননি।

তদন্তের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওমরের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ গঠনের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তদন্তের বিষয়গুলো এখনো প্রক্রিয়াধীন। ফলে তদন্তের অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেল মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। নির্বাচনী প্রচারে তিনি সরকারি অর্থের অপব্যবহার ঠেকানো, চিকিৎসা সুবিধা সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

নির্বাচনের আগে বিতর্কের মধ্যেও নিজ আসনে প্রচার চালিয়ে যান ওমর। মিনিয়াপোলিসের একটি সোমালি বিপণিবিতানে সোমালি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের ব্যয় মেটাতে সমর্থকদের কাছে অনুদানও চান।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই জয় নিয়ে মিনেসোটার পঞ্চম আসনে নিজের প্রতিনিধিত্ব আরও দুই বছরের জন্য নিশ্চিত করলেন ইলহান ওমর। অভিবাসনসংক্রান্ত তদন্ত ও ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই তাঁর পুনর্নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

❤️
👏
🙂
😞

তদন্ত ও বিতর্কের মধ্যেও পঞ্চমবার কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত ইলহান ওমর

প্রকাশঃ ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৬

মিনিয়াপোলিস, ৪ নভেম্বর (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের পঞ্চম কংগ্রেসনাল আসন থেকে টানা পঞ্চমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ইলহান ওমর। রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেলকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন তিনি। নির্বাচনের আগে অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তের মুখে ছিলেন এই কংগ্রেস সদস্য।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ওমরের জয় নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। বুধবার (৪ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে তিনি পেয়েছেন ৭৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ ভোট, অর্থাৎ ২ লাখ ৬৩ হাজার ১৬৬টি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেল পেয়েছেন ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ ভোট, অর্থাৎ ৫৫ হাজার ৮০৫টি।

মিনিয়াপোলিস ও আশপাশের শহরতলি নিয়ে গঠিত এই আসনটি মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটদের শক্তিশালী নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত। ২০১৯ সাল থেকে আসনটির প্রতিনিধিত্ব করছেন ওমর। গত আগস্টে দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনেও জয় পান তিনি। মে মাসে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক-ফার্মার-লেবার পার্টির রাজ্য সম্মেলনেও তাঁর প্রতি সমর্থন জানানো হয়।

সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান ওমর দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের লক্ষ্যবস্তু। এর আগে ট্রাম্প তাঁকে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। তাঁকে ‘আবর্জনা’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন।

নির্বাচনের আগে ওমরকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয় তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে ফেডারেল তদন্তের কারণে। গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর বাসায় তল্লাশি চালান যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তদন্তকারীরা। মার্কিন বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানার ভিত্তিতে এই তল্লাশি চালানো হয়। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তটি ওমরের শৈশবে তাঁর প্রয়াত বাবার পূরণ করা অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র ঘিরে।

তল্লাশির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ওমর ঘটনাটিকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করতে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহারের নজিরবিহীন পদক্ষেপ বলে সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছেন। ওমরের কার্যালয়ও জানিয়েছে, তিনি কোনো অন্যায় করেননি।

তদন্তের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওমরের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ গঠনের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তদন্তের বিষয়গুলো এখনো প্রক্রিয়াধীন। ফলে তদন্তের অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেল মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। নির্বাচনী প্রচারে তিনি সরকারি অর্থের অপব্যবহার ঠেকানো, চিকিৎসা সুবিধা সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

নির্বাচনের আগে বিতর্কের মধ্যেও নিজ আসনে প্রচার চালিয়ে যান ওমর। মিনিয়াপোলিসের একটি সোমালি বিপণিবিতানে সোমালি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের ব্যয় মেটাতে সমর্থকদের কাছে অনুদানও চান।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই জয় নিয়ে মিনেসোটার পঞ্চম আসনে নিজের প্রতিনিধিত্ব আরও দুই বছরের জন্য নিশ্চিত করলেন ইলহান ওমর। অভিবাসনসংক্রান্ত তদন্ত ও ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই তাঁর পুনর্নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র: সিবিএস নিউজ