ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার রায়ের পর মিষ্টি বিতরণের ঘটনায় সংঘর্ষ: ছাত্রদল নেতা রবিউল হত্যা মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৮:২৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / 72

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম হত্যা মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮–৯ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। নিহত রবিউলের বাবা মিজানুর রহমান দুলাল হাওলাদার গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাবুগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আউয়াল হাওলাদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পলাশ চন্দ্র সরকার জানান, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত অভিযুক্তদের শনাক্তের কাজ চলছে। কোনো নিরীহ ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে হয়রানি করা হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে কিছু নিরপরাধ ব্যক্তির নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা মামলাটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

এর আগে, গত সোমবার জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়কে স্বাগত জানিয়ে সেদিন সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী মিষ্টি বিতরণ করছিল।

এ সময় ছাত্রদলের আরেক পক্ষ এসে কেন তাঁদের না জানিয়ে এমন আয়োজন করা হয়েছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও পরে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে রবিউলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তাঁকে উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন।

বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের একটি সূত্র জানায়, তিন মাস আগে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি ঘোষিত হয়; তবে এক মাস পর সেটি স্থগিত করে জেলা ছাত্রদল। এরপর থেকেই ইউনিয়নে দু’পক্ষ আলাদা রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছিল। স্থগিত কমিটির সহসভাপতি রবিউল ইসলাম এক পক্ষে ছিলেন, আরেক পক্ষে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক নাবিদ হাসানসহ আগরপুর কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এমদাদুল হক ও অন্যরা। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।

বিষয়টি নিয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, এই হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার সুযোগ নেই। যারা প্রকৃতভাবে জড়িত, কেবল তাঁদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হোক। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বানিয়ে কাউকে হয়রানি করা বরদাশত করা হবে না।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনার রায়ের পর মিষ্টি বিতরণের ঘটনায় সংঘর্ষ: ছাত্রদল নেতা রবিউল হত্যা মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশঃ ০৮:২৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম হত্যা মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮–৯ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। নিহত রবিউলের বাবা মিজানুর রহমান দুলাল হাওলাদার গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাবুগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আউয়াল হাওলাদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পলাশ চন্দ্র সরকার জানান, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত অভিযুক্তদের শনাক্তের কাজ চলছে। কোনো নিরীহ ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে হয়রানি করা হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে কিছু নিরপরাধ ব্যক্তির নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা মামলাটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

এর আগে, গত সোমবার জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়কে স্বাগত জানিয়ে সেদিন সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী মিষ্টি বিতরণ করছিল।

এ সময় ছাত্রদলের আরেক পক্ষ এসে কেন তাঁদের না জানিয়ে এমন আয়োজন করা হয়েছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও পরে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে রবিউলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তাঁকে উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন।

বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের একটি সূত্র জানায়, তিন মাস আগে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি ঘোষিত হয়; তবে এক মাস পর সেটি স্থগিত করে জেলা ছাত্রদল। এরপর থেকেই ইউনিয়নে দু’পক্ষ আলাদা রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছিল। স্থগিত কমিটির সহসভাপতি রবিউল ইসলাম এক পক্ষে ছিলেন, আরেক পক্ষে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক নাবিদ হাসানসহ আগরপুর কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এমদাদুল হক ও অন্যরা। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।

বিষয়টি নিয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, এই হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার সুযোগ নেই। যারা প্রকৃতভাবে জড়িত, কেবল তাঁদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হোক। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বানিয়ে কাউকে হয়রানি করা বরদাশত করা হবে না।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”