জরুরি চিকিৎসাসেবা সংকটে গণ বিশ্ববিদ্যালয়, চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা
- প্রকাশঃ ০৯:৩৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / 42
সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম থাকলেও বাস্তবে চিকিৎসক না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষক ও বিভিন্ন বিভাগের কর্মীরা, যা একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা জানান, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা পাওয়ার মতো কোনো সুব্যবস্থা নেই। চলমান সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার সময় একাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না পেয়ে তাদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) একাডেমিক ভবনের ৫২২ নম্বর কক্ষে পরীক্ষাকালীন এক শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হল থেকে জরুরি সহায়তার জন্য যোগাযোগ করা হলে প্রায় ১৫–২০ মিনিট পর স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের ব্যক্তিগত সহকারী ঘটনাস্থলে পৌঁছে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের নির্দেশনায় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
এর আগে গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) আরেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে জরুরি ওষুধ চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক তাকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে বলেন। এতে ওই শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হন।
ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা আছে—এ বিষয়টি বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই জানে না। কোথায় এই সেবা পাওয়া যাবে বা কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, সে সম্পর্কেও কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে বিপদের সময় শিক্ষার্থীরা দিশেহারা হয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী জানান, পরীক্ষার মাঝখানে হঠাৎ শরীর খারাপ হয়ে যায়। হলে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকের কাছে ওষুধ চাইলে বাইরে থেকে কিনে আনতে বলেন। কোনো সহানুভূতি বা তাৎক্ষণিক সহায়তা পাইনি।
এ বিষয়ে ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানিয়া আহমেদ তন্বী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক নেই। তাই প্রয়োজন হলে আমরা নিজেরাই শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা করি। রক্তচাপ মাপা বা সাধারণ কিছু স্বাস্থ্যসেবায় স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের আফরীন আপা সহায়তা করেন।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো সময় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নিকটবর্তী হাসপাতাল অনেক দূরে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অ্যাম্বুলেন্স সুবিধাও নেই। এ অবস্থায় ক্যাম্পাসে অন্তত একজন চিকিৎসক ও কার্যকর জরুরি সেবা কাঠামো থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ততদিন পর্যন্ত গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের চিকিৎসকদের মাধ্যমে সাময়িকভাবে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






























