ঢাকা ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শিক্ষকসহ আহত ১২ জন

ইমতিয়াজ উদ্দিন । জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  • প্রকাশঃ ০৯:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • / 40

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে তিন দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস এলাকা। সংঘর্ষে শিক্ষকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন  ছবি: সংগৃহীত


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত ও সুমন সরদার গ্রুপের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে সমঝোতা বৈঠক চলাকালে তিন দফায় সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের সামিউদ্দিন সাজিদ, আল-আমিন, আশরাফুল, প্রত্যয়, ইব্রাহিম, জনি ও জাহিদ; রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাদী এবং বাংলা বিভাগের ছাব্বীরসহ আরও কয়েকজন।

জানা গেছে, সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে আস-সুন্নাহ পরিবহনের বাসে মার্কেটিং বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাজিদ ও তাঁর বন্ধুরা কথা বলছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদী তাঁদের কথা বলা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে হুমকি দেন—‘তোমাকে দ্বিতীয় গেটে ঝুলিয়ে রাখব।’ এরপর সাদী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট ও হলে গিয়েও সাজিদের খোঁজ নেন।

আজ দুপুরে দ্বিতীয় গেটের সামনে সাজিদ তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকলে সাদী, আহ্বায়ক সদস্য মাশফিক রাইন, বাংলা বিভাগের আশরাফুল ও যুগ্ম আহ্বায়ক আরাফাত সেখানে গিয়ে তাঁকে ডাকেন। কিছুক্ষণ পর সাদী ও তাঁর সহযোগীরা অতর্কিতভাবে সাজিদের ওপর হামলা চালান। তাঁকে বাঁচাতে গেলে আল-আমিন, প্রত্যয়, ইব্রাহিম ও জাহিদও হামলার শিকার হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাজিদ দ্বিতীয় গেটের সামনে এক নেতার সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় পেছন থেকে সাদীর অনুসারীরা এসে তাঁকে আঘাত করতে শুরু করেন। উপস্থিত সিনিয়র নেতাকর্মীরা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।

পরবর্তীতে শান্ত চত্বরে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। সেখানে চেয়ার দিয়ে আল-আমিনের মুখে আঘাত করা হয়। উপস্থিত ছিলেন শাখা আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল। তিনি ও অন্য সিনিয়র নেতারা দু’পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

শেষ পর্যন্ত ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিনের কক্ষে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সাদীকে সেখানে আনার সময় তৃতীয় দফায় আবার সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে জনি, রাব্বীসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. নঈম আক্তার সিদ্দিকী, ফেরদৌস হোসেন ও মাহাদী হাসান জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষকও আহত হন।

আহত শিক্ষার্থী সাজিদ বলেন, গতকাল সকালে বাসে কথা বলছিলাম, তখন সাদী এসে হুমকি দেয়। আজ ১৫–২০ জন নিয়ে এসে আমার ও আমার বন্ধুদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

আহত আল-আমিন বলেন, চেয়ার দিয়ে এমনভাবে আঘাত করেছে যে মুখ ফুলে গেছে, চেয়ারটাই ভেঙে গেছে।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার বলেন, “আস-সুন্নাহ হলের বাসে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে রাজনৈতিক কোনো বিষয় জড়িত নয়।”

শাখা আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম এবং দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছি। পরে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে সমঝোতা হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। পরে তা বড় আকার ধারণ করে। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শিক্ষকসহ আহত ১২ জন

প্রকাশঃ ০৯:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে তিন দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস এলাকা। সংঘর্ষে শিক্ষকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন  ছবি: সংগৃহীত


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত ও সুমন সরদার গ্রুপের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে সমঝোতা বৈঠক চলাকালে তিন দফায় সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের সামিউদ্দিন সাজিদ, আল-আমিন, আশরাফুল, প্রত্যয়, ইব্রাহিম, জনি ও জাহিদ; রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাদী এবং বাংলা বিভাগের ছাব্বীরসহ আরও কয়েকজন।

জানা গেছে, সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে আস-সুন্নাহ পরিবহনের বাসে মার্কেটিং বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাজিদ ও তাঁর বন্ধুরা কথা বলছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদী তাঁদের কথা বলা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে হুমকি দেন—‘তোমাকে দ্বিতীয় গেটে ঝুলিয়ে রাখব।’ এরপর সাদী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট ও হলে গিয়েও সাজিদের খোঁজ নেন।

আজ দুপুরে দ্বিতীয় গেটের সামনে সাজিদ তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকলে সাদী, আহ্বায়ক সদস্য মাশফিক রাইন, বাংলা বিভাগের আশরাফুল ও যুগ্ম আহ্বায়ক আরাফাত সেখানে গিয়ে তাঁকে ডাকেন। কিছুক্ষণ পর সাদী ও তাঁর সহযোগীরা অতর্কিতভাবে সাজিদের ওপর হামলা চালান। তাঁকে বাঁচাতে গেলে আল-আমিন, প্রত্যয়, ইব্রাহিম ও জাহিদও হামলার শিকার হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাজিদ দ্বিতীয় গেটের সামনে এক নেতার সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় পেছন থেকে সাদীর অনুসারীরা এসে তাঁকে আঘাত করতে শুরু করেন। উপস্থিত সিনিয়র নেতাকর্মীরা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।

পরবর্তীতে শান্ত চত্বরে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। সেখানে চেয়ার দিয়ে আল-আমিনের মুখে আঘাত করা হয়। উপস্থিত ছিলেন শাখা আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল। তিনি ও অন্য সিনিয়র নেতারা দু’পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

শেষ পর্যন্ত ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিনের কক্ষে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সাদীকে সেখানে আনার সময় তৃতীয় দফায় আবার সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে জনি, রাব্বীসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. নঈম আক্তার সিদ্দিকী, ফেরদৌস হোসেন ও মাহাদী হাসান জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষকও আহত হন।

আহত শিক্ষার্থী সাজিদ বলেন, গতকাল সকালে বাসে কথা বলছিলাম, তখন সাদী এসে হুমকি দেয়। আজ ১৫–২০ জন নিয়ে এসে আমার ও আমার বন্ধুদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

আহত আল-আমিন বলেন, চেয়ার দিয়ে এমনভাবে আঘাত করেছে যে মুখ ফুলে গেছে, চেয়ারটাই ভেঙে গেছে।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার বলেন, “আস-সুন্নাহ হলের বাসে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে রাজনৈতিক কোনো বিষয় জড়িত নয়।”

শাখা আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম এবং দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছি। পরে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে সমঝোতা হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। পরে তা বড় আকার ধারণ করে। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”