জুলাই আন্দোলনে বাধা ও হুমকির অভিযোগে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ জনকে শাস্তি
- প্রকাশঃ ০২:৫৩:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 22
বৈষম্যবিরোধী জুলাই আন্দোলনে বাধাদান, হুমকি প্রদান ও চিকিৎসা সেবায় প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক, একজন কর্মকর্তা ও ১৩ শিক্ষার্থীসহ মোট ১৬ জনকে শাস্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০তম সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের আলোকে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।
শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জি এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সাবেক পরিচালক ড. মো. মেহেদী উল্লাহ।
অন্যদিকে, শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আছেন সাবেক রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর।
তিনজনকেই চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
১৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি
বাধাদান ও হুমকির ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ১৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যারা বর্তমানে অধ্যয়নরত, তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর অধ্যয়নরত নন, তাদের মধ্যে স্নাতক সম্পন্নকারীদের স্নাতক সনদ এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্নকারীদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় সনদ বাতিল করা হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—
আল মাহমুদ কায়েস, মো. রাশেদুল ইসলাম রিয়েল, আনাস সরকার, জুবায়ের আহমেদ সাব্বির (অ্যালেক্স সাব্বির), মো. ইঞ্জামামুল হাসান, কে এম রাজু, মোছা. তৃণা মির্জা, রিয়াজ উদ্দিন, নাইম আহমেদ দুর্জয়, হাসিব সিদ্দিকী, তাসনীমুল মুবীন, মো. মোস্তাকিম মিয়া ও মো. পারভেজ মাতুব্বর।
চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাধাদান, ধর্ষণের হুমকি, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং উসকানিদাতাদের ভূমিকার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি ১০ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে।
কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা এবং সদস্য সচিব ছিলেন প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় একাডেমিক পরিবেশ রক্ষা এবং ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।






























