ঢাকা ০৬:৩২ , Tue, ০৭ Jul ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর কোন দেশে রয়েছে? জানুন ২০২৬ সালের তালিকা

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৭ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪১
  • / 3
ছবি: সিএনএন

ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন ২০২৬ সালের বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের স্বীকৃতি ধরে রেখেছে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) প্রকাশিত বার্ষিক সূচকে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো শীর্ষস্থান অর্জন করেছে শহরটি। গত তিন বছর শীর্ষে থাকা অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাকে টানা দ্বিতীয়বার পেছনে ফেলেছে কোপেনহেগেন।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এই সূচকে বিশ্বের ১৭৩টি শহরকে শিক্ষা, স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো এবং সংস্কৃতি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

ইআইইউ, যা দ্য ইকোনমিস্ট সাময়িকীর সহযোগী প্রতিষ্ঠান, জানিয়েছে কোপেনহেগেন স্থিতিশীলতা, অবকাঠামো এবং শিক্ষাখাতে পূর্ণ নম্বর পেয়েছে। পাশাপাশি উন্নত জনসেবা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও পরিবেশগত মানও শহরটিকে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।

সূচকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা। তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, যা আগের বছরের তুলনায় এক ধাপ এগিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আরেক শহর সিডনি দুই ধাপ এগিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

গত বছর ভিয়েনার সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে থাকা সুইজারল্যান্ডের জুরিখ এবার পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে। একই দেশের জেনেভা রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে।

জাপানের ওসাকা সপ্তম স্থান ধরে রেখেছে। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড অষ্টম, কানাডার ভ্যাঙ্কুভার নবম এবং জাপানের টোকিও দশম স্থানে রয়েছে।

উত্তর আমেরিকার শহরগুলোর মধ্যে ভ্যাঙ্কুভারই শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে হনোলুলু, যদিও আগের বছরের তুলনায় দুই ধাপ পিছিয়ে শহরটির অবস্থান এখন ২৫তম। নিউইয়র্ক অপরাধের হার কমে যাওয়া এবং সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি হ্রাস পাওয়ার কারণে স্থিতিশীলতা সূচকে উন্নতি করে তিন ধাপ এগিয়ে ৬৬তম স্থানে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাবও এবারের সূচকে প্রতিফলিত হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি শহরের স্থিতিশীলতা সূচকে অবনতি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি পিছিয়েছে ওমানের রাজধানী মাসকাট। শহরটি ১৪ ধাপ নেমে ১২৩তম স্থানে রয়েছে। কুয়েত সিটি ১২ ধাপ পিছিয়ে ১০৫তম স্থানে অবস্থান করছে।

গত বছর দাঙ্গা ও অস্থিরতার কারণে যুক্তরাজ্যের শহরগুলোর স্কোর কমে গেলেও এবার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। দেশটির মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার, যার অবস্থান ৫২তম। লন্ডন রয়েছে ৫৪তম এবং এডিনবরা ৬৪তম স্থানে।

ইআইইউ জানিয়েছে, পশ্চিম ইউরোপ এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য অঞ্চল হলেও ২০২৫ সালের তুলনায় অঞ্চলটির গড় স্কোর সামান্য কমে ৯১ দশমিক ৭ হয়েছে।

অন্যদিকে এশিয়ার গড় স্কোর বেড়ে ৭৩ দশমিক ৯ হয়েছে। এর পেছনে বিশেষ করে চীনের বিভিন্ন শহরে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন বড় ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যখাতে সরকারি অর্থায়ন বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা বিমা ব্যবস্থা চালু এবং চিকিৎসাসেবার সম্প্রসারণের কারণে চীনের শহরগুলোর স্বাস্থ্যসেবা সূচকে উন্নতি হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব চীনের ফুঝৌ সাত ধাপ এগিয়ে ৯৩তম স্থানে উঠে এসেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরের তালিকায় এখনও রয়েছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। তবে তালিকার নিচের দিকে পরিবর্তন এসেছে। যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের রাজধানী তেহরান নেমে গেছে ১৬৪তম স্থানে এবং ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ রয়েছে ১৬৬তম অবস্থানে।

ইআইইউর ইন্ডাস্ট্রি ডিরেক্টর আনা নিকোলস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার অবনতি এবং এশিয়ায় স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি একে অপরকে ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। ফলে বৈশ্বিক গড় বাসযোগ্যতার স্কোর গত বছরের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।

২০২৬ সালের বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য ১০ শহর

১. কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক
২. ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া
৩. মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
৪. সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
৫. জুরিখ, সুইজারল্যান্ড
৬. জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
৭. ওসাকা, জাপান
৮. অ্যাডিলেড, অস্ট্রেলিয়া
৯. ভ্যাঙ্কুভার, কানাডা
১০. টোকিও, জাপান

❤️
👏
🙂
😞

বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর কোন দেশে রয়েছে? জানুন ২০২৬ সালের তালিকা

প্রকাশঃ ০৭ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪১

ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন ২০২৬ সালের বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের স্বীকৃতি ধরে রেখেছে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) প্রকাশিত বার্ষিক সূচকে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো শীর্ষস্থান অর্জন করেছে শহরটি। গত তিন বছর শীর্ষে থাকা অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাকে টানা দ্বিতীয়বার পেছনে ফেলেছে কোপেনহেগেন।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এই সূচকে বিশ্বের ১৭৩টি শহরকে শিক্ষা, স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো এবং সংস্কৃতি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

ইআইইউ, যা দ্য ইকোনমিস্ট সাময়িকীর সহযোগী প্রতিষ্ঠান, জানিয়েছে কোপেনহেগেন স্থিতিশীলতা, অবকাঠামো এবং শিক্ষাখাতে পূর্ণ নম্বর পেয়েছে। পাশাপাশি উন্নত জনসেবা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও পরিবেশগত মানও শহরটিকে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।

সূচকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা। তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, যা আগের বছরের তুলনায় এক ধাপ এগিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আরেক শহর সিডনি দুই ধাপ এগিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

গত বছর ভিয়েনার সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে থাকা সুইজারল্যান্ডের জুরিখ এবার পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে। একই দেশের জেনেভা রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে।

জাপানের ওসাকা সপ্তম স্থান ধরে রেখেছে। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড অষ্টম, কানাডার ভ্যাঙ্কুভার নবম এবং জাপানের টোকিও দশম স্থানে রয়েছে।

উত্তর আমেরিকার শহরগুলোর মধ্যে ভ্যাঙ্কুভারই শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে হনোলুলু, যদিও আগের বছরের তুলনায় দুই ধাপ পিছিয়ে শহরটির অবস্থান এখন ২৫তম। নিউইয়র্ক অপরাধের হার কমে যাওয়া এবং সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি হ্রাস পাওয়ার কারণে স্থিতিশীলতা সূচকে উন্নতি করে তিন ধাপ এগিয়ে ৬৬তম স্থানে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাবও এবারের সূচকে প্রতিফলিত হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি শহরের স্থিতিশীলতা সূচকে অবনতি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি পিছিয়েছে ওমানের রাজধানী মাসকাট। শহরটি ১৪ ধাপ নেমে ১২৩তম স্থানে রয়েছে। কুয়েত সিটি ১২ ধাপ পিছিয়ে ১০৫তম স্থানে অবস্থান করছে।

গত বছর দাঙ্গা ও অস্থিরতার কারণে যুক্তরাজ্যের শহরগুলোর স্কোর কমে গেলেও এবার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। দেশটির মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার, যার অবস্থান ৫২তম। লন্ডন রয়েছে ৫৪তম এবং এডিনবরা ৬৪তম স্থানে।

ইআইইউ জানিয়েছে, পশ্চিম ইউরোপ এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য অঞ্চল হলেও ২০২৫ সালের তুলনায় অঞ্চলটির গড় স্কোর সামান্য কমে ৯১ দশমিক ৭ হয়েছে।

অন্যদিকে এশিয়ার গড় স্কোর বেড়ে ৭৩ দশমিক ৯ হয়েছে। এর পেছনে বিশেষ করে চীনের বিভিন্ন শহরে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন বড় ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যখাতে সরকারি অর্থায়ন বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা বিমা ব্যবস্থা চালু এবং চিকিৎসাসেবার সম্প্রসারণের কারণে চীনের শহরগুলোর স্বাস্থ্যসেবা সূচকে উন্নতি হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব চীনের ফুঝৌ সাত ধাপ এগিয়ে ৯৩তম স্থানে উঠে এসেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরের তালিকায় এখনও রয়েছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। তবে তালিকার নিচের দিকে পরিবর্তন এসেছে। যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের রাজধানী তেহরান নেমে গেছে ১৬৪তম স্থানে এবং ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ রয়েছে ১৬৬তম অবস্থানে।

ইআইইউর ইন্ডাস্ট্রি ডিরেক্টর আনা নিকোলস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার অবনতি এবং এশিয়ায় স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি একে অপরকে ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। ফলে বৈশ্বিক গড় বাসযোগ্যতার স্কোর গত বছরের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।

২০২৬ সালের বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য ১০ শহর

১. কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক
২. ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া
৩. মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
৪. সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
৫. জুরিখ, সুইজারল্যান্ড
৬. জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
৭. ওসাকা, জাপান
৮. অ্যাডিলেড, অস্ট্রেলিয়া
৯. ভ্যাঙ্কুভার, কানাডা
১০. টোকিও, জাপান