ফিফা বিশ্বকাপ
২ গোলে পিছিয়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, মেসির নেতৃত্বে মিসরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা
- প্রকাশঃ ০৭ জুলাই ২০২৬, ১৮:২৪
- / 3
সবকিছুই যেন শেষ হয়ে গিয়েছিল। স্কোরবোর্ডে ২-০, ম্যাচের সময় গড়িয়েছে ৬৭ মিনিট। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেছেন লিওনেল মেসি। মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর একের পর এক দুর্দান্ত সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করে যাচ্ছিলেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় তখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে হচ্ছিল।
কিন্তু আটলান্টার স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে অন্য এক গল্প লিখল লিওনেল স্কালোনির দল। শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল করে ২-০ ব্যবধান থেকে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে মিসর। ১৫তম মিনিটে মারাওয়ান আতিয়ার নিখুঁত ক্রস থেকে ইয়াসির ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। ২১তম মিনিটে পেনাল্টি পায় দলটি। তবে লিওনেল মেসির নেওয়া স্পটকিক ডান দিকে ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন মোস্তফা শোবেইর। এরপর আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড, মেসির ফ্রি-কিক এবং হুলিয়ান আলভারেজের শটসহ একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক। এক পর্যায়ে মেসির একটি ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার দখলে। কিন্তু গোল আসে মিসরের। ৬৭তম মিনিটে আর্জেন্টিনার একটি কর্নার থেকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে মিসর। মাঝমাঠ থেকে মোহাম্মদ সালাহ বল বাড়িয়ে দেন হাইসেম হাসানের দিকে। ডান প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে গিয়ে তিনি নিচু ক্রস বাড়ান বক্সে। সেখানে অপেক্ষায় থাকা মোস্তফা জিকো সহজেই বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ চেষ্টা হিসেবে লাউতারো মার্তিনেস ও নিকো গনসালেসকে মাঠে নামান আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। সেই পরিবর্তনের পর থেকেই ম্যাচের গতি পাল্টে যায়। ৭৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো শক্তিশালী হেডে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে দিয়েগো ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ৯টি অ্যাসিস্টের মালিক হন মেসি।
এর চার মিনিট পর সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। মিসরের রক্ষণ বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে না পারলে গনসালো মন্তিয়েল বল বাড়িয়ে দেন মেসির কাছে। প্রথম ছোঁয়ায় নেওয়া তার শট মোস্তফা শোবেইর স্পর্শ করলেও বল ক্রসবারে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। প্রথমার্ধের পেনাল্টি মিসের হতাশা দূর করে ম্যাচে সমতা ফেরান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপে এটি তার অষ্টম গোল। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বকাপের এক আসরে দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে আট গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
সমতায় ফিরেও থেমে থাকেনি আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মিসর আরেকটি বিপজ্জনক পাল্টা আক্রমণ গড়ে তুললেও লিয়ান্দ্রো পারেদেসের দুর্দান্ত ট্যাকলে বিপদ কেটে যায়। এর ঠিক এক মিনিট পর আসে ম্যাচের নির্ধারক মুহূর্ত। লাউতারো মার্তিনেসের বাড়ানো বল থেকে বক্সে ঢুকে হেডে জাল খুঁজে নেন এনসো ফের্নান্দেস। ২-০ থেকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয় বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের জায়গা।
একই সঙ্গে এই গোলটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের ৩ হাজারতম গোল। হার না মানা মানসিকতা, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেতৃত্বে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প হয়ে থাকবে এই ম্যাচ। একটি গোল, একটি অ্যাসিস্ট এবং পেনাল্টি মিসের পরও দলকে জয়ের পথে ফিরিয়ে এনে আবারও নিজের নেতৃত্বের স্বাক্ষর রাখলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।


























