ঢাকা ০৬:২৮ , Sat, ১১ Jul ২০২৬
বিশ্বসমাচার
আমেরিকা

ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার অনীহায় নিউইয়র্কে পিছিয়ে পড়ছেন বাংলাদেশি প্রার্থীরা

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি
  • প্রকাশঃ ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৯
  • / 4
শনিবার নিউ ইয়র্ক সিটির মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্টে নিউ ইয়র্ক প্রাইমারি নির্বাচনের আগাম ভোট প্রদানের সময় ভোট দিচ্ছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ছবি: এডুয়ার্ডো মুনোজ/রয়টার্স

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না ভোটারদের অংশগ্রহণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটের দিন বাংলাদেশি ভোটারদের একটি বড় অংশ কেন্দ্রে না যাওয়ায় বিভিন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশি প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ আসনে পিছিয়ে পড়ছেন। ফলে সম্প্রদায়টির রাজনৈতিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেই শক্তি বাস্তবে রূপ পাচ্ছে না।

গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যেখানে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল। একই সঙ্গে শহরজুড়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র প্রায় ১৭ শতাংশ, যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বিগ্ন করেছে।

নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর দ্রুত বিস্তার ঘটেছে। বাংলা ভাষায় ব্যালট, ভোটার গাইড এবং নির্বাচনী সহায়তা চালু হওয়াও এই সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক গুরুত্বের স্বীকৃতি। তবুও নির্বাচনের দিন বহু নিবন্ধিত ভোটার কেন্দ্রে যান না।

কমিউনিটির রাজনৈতিক কর্মীরা বলছেন, অনেকেই মনে করেন, ‘আমার একটি ভোটে কিছু আসে-যায় না।’ আবার অনেকে নির্বাচনের তারিখ, আগাম ভোট বা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সম্পর্কেও অবগত নন। ফলে নিবন্ধিত ভোটারদের বড় একটি অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন না।

গত কয়েক বছরে নিউইয়র্কে সিটি কাউন্সিল, ডিস্ট্রিক্ট লিডার, জুডিশিয়াল ডেলিগেট, পার্টি কমিটি এবং বিভিন্ন পদে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে তাদের অনেকেই জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও পরাজিত হয়েছেন। সর্বশেষ ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩০ আসনের প্রার্থী শামসুল হক মাত্র ১১ ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন। অথচ তার ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের বাংলাদেশি ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে তিনি দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতে পারতেন।

শামসুল হক বলেন, “অনেকের সঙ্গে দেখা হলে তারা ফলাফল শুনে আফসোস করছেন। তারা বলছেন, এত কম ব্যবধান জানলে অবশ্যই ভোট দিতে যেতাম। এই ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার অনীহাই বাংলাদেশি প্রার্থীদের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি জানান, নির্বাচনের আগে তিন দফায় ১০ হাজার বাড়ির দরজায় প্রায় ৩০ হাজার বার কড়া নাড়া হয়েছে। সবাই ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের দিন উপস্থিতি ছিল মাত্র ৩৯ শতাংশ।

তার ভাষায়, “জ্যাকসন হাইটসের সিংহ মার্কাসহ ৮ থেকে ১০টি ভবনে শত শত বাংলাদেশি বসবাস করেন। প্রতিদিন তারা সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যান। অথচ ভোটের দিন তাদের বড় একটি অংশ ঘর থেকে বের হননি।” তিনি মনে করেন, ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার এই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তবে এটি কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সমষ্টিগত উদ্যোগ।

কমিউনিটির ভূমিকা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন শামসুল হক। তিনি বলেন, “বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অনেক নেতা আছেন। তারা মাঠে নামলে ফল ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু অনেককেই নির্বাচনী প্রচারে পাশে পাইনি। অনেকেই মূলধারার রাজনীতির দাবি করলেও বাস্তবে তাদের অংশগ্রহণ দেখা যায়নি।” তিনি জানান, ফলাফল যাই হোক, তিনি থেমে থাকবেন না। ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন এবং ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করবেন।

এদিকে ১১ ভোটে পিছিয়ে থাকলেও এখনও জয়ের বিষয়ে আশাবাদী শামসুল হক। তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে ৬ হাজার ২০৩টি ব্যালট পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার আবেদন করা হয়েছে। এতে আমার ভোট বাড়তেও পারে, কমতেও পারে।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশি ভোটারদের উপস্থিতি আরও বেশি হলে অনেক নির্বাচনের ফল ভিন্ন হতে পারত। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবধান ছিল কয়েকশ ভোটেরও কম, অথচ সংশ্লিষ্ট এলাকায় হাজার হাজার বাংলাদেশি ভোটার নিবন্ধিত রয়েছেন।

কমিউনিটির প্রবীণ নেতাদের মতে, বাংলাদেশিরা নির্বাচন এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালান, কিন্তু ভোটারদের ঘরে ঘরে পৌঁছে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি এখনও শক্তিশালী হয়নি। অন্যদিকে ইহুদি, চীনা, ভারতীয়, কোরিয়ান ও লাতিনো সম্প্রদায় বছরের পর বছর ধরে ভোটার নিবন্ধন, আগাম ভোট এবং নির্বাচনের দিন ভোটার পরিবহনের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের প্রভাবও অনেক বেশি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ আগের তুলনায় বাড়লেও সেই আগ্রহ এখনও ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত পুরোপুরি পৌঁছায়নি। সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতা বাড়লেও বাস্তবে ভোটদানের হার আশানুরূপ নয়। সাম্প্রতিক নিউইয়র্কের বিভিন্ন নির্বাচনে স্বল্প ভোটার উপস্থিতির মধ্যেই অনেক প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সুসংগঠিত ভোটার উপস্থিতিই অনেক সময় নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে দেয়।

কমিউনিটির নেতাদের মতে, এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের সময়। তাদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে সারা বছরব্যাপী ভোটার নিবন্ধন কর্মসূচি পরিচালনা, নতুন নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনে সহায়তা, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরা, তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো এবং নির্বাচনের দিন স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে ভোটার পরিবহনের ব্যবস্থা করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী। ব্যবসা, চিকিৎসা, প্রকৌশল, শিক্ষা ও গণমাধ্যমসহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন। এখন সেই সামাজিক শক্তিকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ভোটাধিকার প্রয়োগ।

কমিউনিটির প্রবীণদের ভাষায়, “প্রার্থী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভোট দিতে যাওয়া।” কারণ একটি নির্বাচনে কয়েকটি ভোটই একজন বাংলাদেশি প্রার্থীর জয় কিংবা পরাজয় নির্ধারণ করতে পারে। আর সেই বাস্তবতাই আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে ভোটকেন্দ্রে তাদের উপস্থিতির ওপর।

❤️
👏
🙂
😞

ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার অনীহায় নিউইয়র্কে পিছিয়ে পড়ছেন বাংলাদেশি প্রার্থীরা

প্রকাশঃ ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৯

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না ভোটারদের অংশগ্রহণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটের দিন বাংলাদেশি ভোটারদের একটি বড় অংশ কেন্দ্রে না যাওয়ায় বিভিন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশি প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ আসনে পিছিয়ে পড়ছেন। ফলে সম্প্রদায়টির রাজনৈতিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেই শক্তি বাস্তবে রূপ পাচ্ছে না।

গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যেখানে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল। একই সঙ্গে শহরজুড়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র প্রায় ১৭ শতাংশ, যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বিগ্ন করেছে।

নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর দ্রুত বিস্তার ঘটেছে। বাংলা ভাষায় ব্যালট, ভোটার গাইড এবং নির্বাচনী সহায়তা চালু হওয়াও এই সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক গুরুত্বের স্বীকৃতি। তবুও নির্বাচনের দিন বহু নিবন্ধিত ভোটার কেন্দ্রে যান না।

কমিউনিটির রাজনৈতিক কর্মীরা বলছেন, অনেকেই মনে করেন, ‘আমার একটি ভোটে কিছু আসে-যায় না।’ আবার অনেকে নির্বাচনের তারিখ, আগাম ভোট বা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সম্পর্কেও অবগত নন। ফলে নিবন্ধিত ভোটারদের বড় একটি অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন না।

গত কয়েক বছরে নিউইয়র্কে সিটি কাউন্সিল, ডিস্ট্রিক্ট লিডার, জুডিশিয়াল ডেলিগেট, পার্টি কমিটি এবং বিভিন্ন পদে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে তাদের অনেকেই জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও পরাজিত হয়েছেন। সর্বশেষ ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩০ আসনের প্রার্থী শামসুল হক মাত্র ১১ ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন। অথচ তার ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের বাংলাদেশি ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে তিনি দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতে পারতেন।

শামসুল হক বলেন, “অনেকের সঙ্গে দেখা হলে তারা ফলাফল শুনে আফসোস করছেন। তারা বলছেন, এত কম ব্যবধান জানলে অবশ্যই ভোট দিতে যেতাম। এই ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার অনীহাই বাংলাদেশি প্রার্থীদের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি জানান, নির্বাচনের আগে তিন দফায় ১০ হাজার বাড়ির দরজায় প্রায় ৩০ হাজার বার কড়া নাড়া হয়েছে। সবাই ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের দিন উপস্থিতি ছিল মাত্র ৩৯ শতাংশ।

তার ভাষায়, “জ্যাকসন হাইটসের সিংহ মার্কাসহ ৮ থেকে ১০টি ভবনে শত শত বাংলাদেশি বসবাস করেন। প্রতিদিন তারা সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যান। অথচ ভোটের দিন তাদের বড় একটি অংশ ঘর থেকে বের হননি।” তিনি মনে করেন, ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার এই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তবে এটি কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সমষ্টিগত উদ্যোগ।

কমিউনিটির ভূমিকা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন শামসুল হক। তিনি বলেন, “বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অনেক নেতা আছেন। তারা মাঠে নামলে ফল ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু অনেককেই নির্বাচনী প্রচারে পাশে পাইনি। অনেকেই মূলধারার রাজনীতির দাবি করলেও বাস্তবে তাদের অংশগ্রহণ দেখা যায়নি।” তিনি জানান, ফলাফল যাই হোক, তিনি থেমে থাকবেন না। ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন এবং ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করবেন।

এদিকে ১১ ভোটে পিছিয়ে থাকলেও এখনও জয়ের বিষয়ে আশাবাদী শামসুল হক। তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে ৬ হাজার ২০৩টি ব্যালট পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার আবেদন করা হয়েছে। এতে আমার ভোট বাড়তেও পারে, কমতেও পারে।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশি ভোটারদের উপস্থিতি আরও বেশি হলে অনেক নির্বাচনের ফল ভিন্ন হতে পারত। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবধান ছিল কয়েকশ ভোটেরও কম, অথচ সংশ্লিষ্ট এলাকায় হাজার হাজার বাংলাদেশি ভোটার নিবন্ধিত রয়েছেন।

কমিউনিটির প্রবীণ নেতাদের মতে, বাংলাদেশিরা নির্বাচন এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালান, কিন্তু ভোটারদের ঘরে ঘরে পৌঁছে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি এখনও শক্তিশালী হয়নি। অন্যদিকে ইহুদি, চীনা, ভারতীয়, কোরিয়ান ও লাতিনো সম্প্রদায় বছরের পর বছর ধরে ভোটার নিবন্ধন, আগাম ভোট এবং নির্বাচনের দিন ভোটার পরিবহনের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের প্রভাবও অনেক বেশি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ আগের তুলনায় বাড়লেও সেই আগ্রহ এখনও ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত পুরোপুরি পৌঁছায়নি। সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতা বাড়লেও বাস্তবে ভোটদানের হার আশানুরূপ নয়। সাম্প্রতিক নিউইয়র্কের বিভিন্ন নির্বাচনে স্বল্প ভোটার উপস্থিতির মধ্যেই অনেক প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সুসংগঠিত ভোটার উপস্থিতিই অনেক সময় নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে দেয়।

কমিউনিটির নেতাদের মতে, এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের সময়। তাদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে সারা বছরব্যাপী ভোটার নিবন্ধন কর্মসূচি পরিচালনা, নতুন নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনে সহায়তা, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরা, তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো এবং নির্বাচনের দিন স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে ভোটার পরিবহনের ব্যবস্থা করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী। ব্যবসা, চিকিৎসা, প্রকৌশল, শিক্ষা ও গণমাধ্যমসহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন। এখন সেই সামাজিক শক্তিকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ভোটাধিকার প্রয়োগ।

কমিউনিটির প্রবীণদের ভাষায়, “প্রার্থী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভোট দিতে যাওয়া।” কারণ একটি নির্বাচনে কয়েকটি ভোটই একজন বাংলাদেশি প্রার্থীর জয় কিংবা পরাজয় নির্ধারণ করতে পারে। আর সেই বাস্তবতাই আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে ভোটকেন্দ্রে তাদের উপস্থিতির ওপর।