বদলি নেমেই ইতিহাস গড়লেন মেরিনো, বেলজিয়ামকে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্পেন
- প্রকাশঃ ১০ জুলাই ২০২৬, ২১:৩৩
- / 2
বদলি হিসেবে মাঠে নেমে আবারও স্পেনের ত্রাতা হয়ে উঠলেন মিকেল মেরিনো। শেষ মুহূর্তের গোলে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ১৬ বছর পর ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে শিরোপাপ্রত্যাশী স্পেন। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ১১৫ সেকেন্ডের মধ্যেই জয়সূচক গোল করে নতুন ইতিহাস গড়েছেন এই মিডফিল্ডার।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ছিল স্পেনের নিয়ন্ত্রণে। লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো, ফাবিয়ান রুইস এবং মিকেল ওইয়ারসাবালের ছোট ছোট পাসে বেলজিয়ামের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে লা রোহা। বিশেষ করে ডান প্রান্তে ইয়ামালের গতি, ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতা শুরু থেকেই চাপে ফেলে রুডি গার্সিয়ার দলকে।
স্পেনের ধারাবাহিক আক্রমণের পুরস্কার আসে ৩০তম মিনিটে। ইয়ামালের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে ডান দিক দিয়ে উঠে আসেন পেদ্রো পোরো। তাঁর নিচু ক্রস থেকে দানি ওলমোর প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। তবে ফিরতি বলে কোনো ভুল করেননি ফাবিয়ান রুইস। কাছ থেকে জালে বল জড়িয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন তিনি।
গোল হজমের পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে বেলজিয়াম। জেরেমি দোকু, কেভিন ডি ব্রুইনা এবং চার্লস ডি কেটেলারের আক্রমণে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে দলটি। ৪১তম মিনিটে ডি ব্রুইনার আক্রমণ থেকে ডান দিক দিয়ে টিমোথি কাস্তানিয়ে দারুণ একটি ক্রস বাড়ান। পাও কুবার্সিকে হারিয়ে শক্তিশালী হেডে উনাই সিমনের জালে বল পাঠান ডি কেটেলারে।
এই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে স্পেনের টানা ৬৪৯ মিনিট গোল না খাওয়ার রেকর্ডের ইতি ঘটে। এটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের দীর্ঘতম ক্লিন শিটের রেকর্ড। সর্বশেষ স্পেন গোল হজম করেছিল আগের বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে জাপানের বিপক্ষে।
বিরতির পর আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেন। ইয়ামালের একের পর এক শট, পেদ্রির নিখুঁত পাস এবং ফেরান তোরেসের গতিতে বেলজিয়ামের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা। তবে প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান থিবো কোর্তোয়া। ৭১তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন সেনে লামেন্স।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন তুরুপের তাস খেলেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ৮৫তম মিনিটে দানি ওলমোর বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় মিকেল মেরিনোকে।
মাঠে নামার তিন মিনিটেরও কম সময় পর আসে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত। ৮৮তম মিনিটে পাও কুবার্সির দূরপাল্লার শট সেনে লামেন্স তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন। ফিরতি বলে সবার আগে পৌঁছে ডান পায়ের জোরালো শটে জালে বল পাঠান মেরিনো।
মাঠে নামার মাত্র ১১৫ সেকেন্ডের মধ্যে করা এই গোলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে স্পেনের কোনো বদলি ফুটবলারের দ্রুততম গোল। এর আগে ১৯৮২ সালে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে এনরিকে সাউরার ১৫৯ সেকেন্ডের রেকর্ডটি ছিল সর্বোচ্চ।
এর আগে শেষ ষোলোতে পর্তুগালের বিপক্ষেও শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করেছিলেন মেরিনো। টানা দুই নকআউট ম্যাচে ৮০ মিনিটের পর জয়সূচক গোল করা বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ফুটবলারও তিনি।
গোল হজমের পর শেষ মুহূর্তে রোমেলু লুকাকুকে সামনে রেখে মরিয়া আক্রমণে ওঠে বেলজিয়াম। তবে আইমেরিক লাপোর্তে ও পাও কুবার্সির দৃঢ় রক্ষণে আর সমতায় ফিরতে পারেনি দলটি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন স্পেনের ফুটবলাররা। টানা দুই নকআউট ম্যাচে বদলি নেমে জয়সূচক গোল করে মিকেল মেরিনো এখন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অন্যতম নির্ভরতার নাম।
এই জয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল স্পেন। পাশাপাশি টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার ধারাও বজায় রাখল লা রোহা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ১৪ জুলাই ডালাসে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে স্পেন।




























