ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক বিশ্বকাপের সময় হত্যা, আরেক বিশ্বকাপের সময় রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৪:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / 2

চার বছর ১১ মাস বয়সী শিশু আলীনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার মামলায় প্রধান আসামি আবির আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর চলা আলোচিত এ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটে।

২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর নগরীর দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকায় নিজ বাসার সামনে থেকে শিশু আয়াত নিখোঁজ হয়। তার বাবা সোহেল রানা এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর প্রতিবেশী আবির আলীকে গ্রেপ্তার করে। ২৫ নভেম্বর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অপহরণের পর শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ ছয় টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। তিনটি অংশ নগরীর আউটার রিং রোডসংলগ্ন বে-টার্মিনাল এলাকায় সাগরে এবং বাকি অংশ আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে স্লুইচগেট এলাকায় নালায় ফেলে দেওয়া হয়।

পিবিআই জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয় এবং ২০২৪ সালের ৩০ মে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলায় মোট ৫০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

তদন্ত অনুযায়ী, আবির আলী নিহত শিশুটির পরিবারের ভাড়াটিয়া ছিলেন। প্রাথমিকভাবে তিনি মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণ করেন এবং পরে তা ব্যর্থ হলে হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার সঙ্গে আরও একজন কিশোর সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

অপর অভিযুক্ত কিশোরের বিচার পৃথকভাবে শিশু আদালতে চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

শেয়ার করুন

এক বিশ্বকাপের সময় হত্যা, আরেক বিশ্বকাপের সময় রায়

প্রকাশঃ ০৪:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

চার বছর ১১ মাস বয়সী শিশু আলীনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার মামলায় প্রধান আসামি আবির আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর চলা আলোচিত এ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটে।

২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর নগরীর দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকায় নিজ বাসার সামনে থেকে শিশু আয়াত নিখোঁজ হয়। তার বাবা সোহেল রানা এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর প্রতিবেশী আবির আলীকে গ্রেপ্তার করে। ২৫ নভেম্বর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অপহরণের পর শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ ছয় টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। তিনটি অংশ নগরীর আউটার রিং রোডসংলগ্ন বে-টার্মিনাল এলাকায় সাগরে এবং বাকি অংশ আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে স্লুইচগেট এলাকায় নালায় ফেলে দেওয়া হয়।

পিবিআই জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয় এবং ২০২৪ সালের ৩০ মে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলায় মোট ৫০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

তদন্ত অনুযায়ী, আবির আলী নিহত শিশুটির পরিবারের ভাড়াটিয়া ছিলেন। প্রাথমিকভাবে তিনি মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণ করেন এবং পরে তা ব্যর্থ হলে হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার সঙ্গে আরও একজন কিশোর সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

অপর অভিযুক্ত কিশোরের বিচার পৃথকভাবে শিশু আদালতে চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।