বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে পড়ার পরিকল্পনা করছেন? আবেদনের আগে যে ১২টি নথি প্রস্তুত রাখবেন
- প্রকাশঃ ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৬
- / 18
ঢাকা, ২১ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, স্নাতকোত্তর, পিএইচডি বা ডক্টরেটসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার জন্য দেশ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রোগ্রাম ও স্কলারশিপভেদে নথির ধরন ও শর্ত আলাদা হতে পারে। তাই আবেদন শুরুর আগেই সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, সত্যায়ন ও প্রয়োজন অনুযায়ী অনুবাদ করে রাখা সুবিধাজনক।
তবে সব স্কলারশিপে একই ধরনের নথি প্রয়োজন হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবেদনের শুরুতেই সত্যায়িত কপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন থাকে না। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নথি প্রস্তুত করতে হবে।
১. বৃত্তির আবেদন ফর্ম
স্কলারশিপ আবেদনের প্রথম ধাপ হলো নির্ধারিত আবেদন ফর্ম পূরণ করা। অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করে জমা দেওয়া যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নথি ডাউনলোড করে কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী জমা দিতে হতে পারে।
২. একাডেমিক সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট
স্কলারশিপ আবেদনে প্রয়োজনীয় একাডেমিক ডিগ্রির সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্টের কপি চাওয়া হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় বা স্কলারশিপ কর্তৃপক্ষের শর্ত অনুযায়ী এসব নথি সত্যায়িত এবং প্রয়োজন হলে অনূদিত করে জমা দিতে হতে পারে। তবে সব আবেদনের শুরুতেই সত্যায়িত কপি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
৩. পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
অনেক ক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্টের কপি আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হয়। পাসপোর্টের মেয়াদ সম্পর্কিত নির্দিষ্ট শর্ত দেশ ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। পাশাপাশি কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বা কর্তৃপক্ষ জাতীয় পরিচয়পত্রের স্ক্যান করা কপিও চাইতে পারে।
৪. ভাষা দক্ষতার সনদ
ইংরেজি বা সংশ্লিষ্ট ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে IELTS, TOEFL, PTE অথবা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপ কর্তৃপক্ষের গ্রহণযোগ্য অন্য কোনো পরীক্ষার সনদ প্রয়োজন হতে পারে। কোন পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য এবং কত স্কোর প্রয়োজন হবে, তা নির্ভর করবে নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্তের ওপর।
৫. স্টেটমেন্ট অব পারপাস
অনেক স্কলারশিপ ও বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনে Statement of Purpose বা SOP গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি। এতে শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে পড়ার আগ্রহ, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য এবং কেন ওই বিশ্ববিদ্যালয় বা স্কলারশিপটি নিজের জন্য উপযুক্ত মনে করছেন, সেসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
তাই আবেদনের আগে একটি কার্যকর SOP তৈরির বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম সম্পর্কে ভালোভাবে জানা এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়া ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা নেওয়াও সহায়ক হতে পারে।
৬. রিকমেন্ডেশন লেটার
স্কলারশিপ আবেদনে Recommendation Letter বা সুপারিশপত্র গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কোথাও নির্দিষ্ট ফরমে, কোথাও অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে এবং কোথাও সরাসরি রেফারির কাছ থেকে সুপারিশপত্র চাওয়া হয়।
কার কাছ থেকে সুপারিশ নেওয়া হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত আবেদনকারীর শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন এমন শিক্ষক, গবেষক বা পেশাজীবীর কাছ থেকে রিকমেন্ডেশন নেওয়া হয়।
৭. সিভি
স্কলারশিপ আবেদনের ক্ষেত্রে একটি হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত বা CV প্রয়োজন হতে পারে। এতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা, গবেষণা, প্রকাশনা, পুরস্কার, ভাষা দক্ষতা এবং কম্পিউটার দক্ষতার মতো প্রাসঙ্গিক তথ্য রাখা যেতে পারে।
৮. ভাষা দক্ষতা ও ভর্তি পরীক্ষার স্কোর
প্রোগ্রাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত অনুযায়ী IELTS, TOEFL-এর মতো ভাষা দক্ষতা পরীক্ষার স্কোরের পাশাপাশি SAT, GMAT বা GRE-এর স্কোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় বা স্কলারশিপে এসব পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়।
তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপের নির্দিষ্ট যোগ্যতা এবং পরীক্ষার শর্ত দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
৯. পিতামাতার আর্থিক তথ্য
বিভিন্ন দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, বিশেষ করে প্রয়োজনভিত্তিক বা need-based স্কলারশিপের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পিতামাতার আর্থিক তথ্য বা পারিবারিক আর্থিক অবস্থার প্রমাণ চাওয়া হতে পারে।
এর মধ্যে আয়, সম্পদ, করসংক্রান্ত নথি বা অন্যান্য আর্থিক কাগজপত্র থাকতে পারে।
১০. মেডিকেল রিপোর্ট বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রমাণপত্র
কিছু ক্ষেত্রে নিজ দেশের অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার বা হাসপাতাল থেকে মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিতে হতে পারে। তবে সব স্কলারশিপের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োজনীয় নয়। দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপের নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট বা সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র চাওয়া হতে পারে।
১১. গবেষণা প্রস্তাব
গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করলে অনেক ক্ষেত্রে Research Proposal বা Research Plan জমা দিতে হতে পারে। তবে সব মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে এটি বাধ্যতামূলক নয়।
গবেষণা প্রস্তাব তৈরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
১২. অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি
দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপের ধরন অনুযায়ী জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্বের প্রমাণ, কাজের অভিজ্ঞতার সনদ, পুরস্কার বা অর্জনের প্রমাণপত্র, পোর্টফোলিওসহ আরও বিভিন্ন নথি প্রয়োজন হতে পারে।
তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপ কর্তৃপক্ষের দেওয়া ডকুমেন্ট চেকলিস্ট ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। এতে প্রয়োজনীয় নথি বাদ পড়ার ঝুঁকি কমে এবং আবেদনের সময়সীমার মধ্যে সব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা সহজ হয়।





























