ঢাকা ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাবনায় দুই আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি: জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে বিএনপির বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৮:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 20

পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা। আজ শুক্রবার বিকেলে পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। ছবি: সংগৃহীত


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনের ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। আজ শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার নেতা-কর্মী পাবনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

ভোটের ব্যবধান ও ফলাফল বিতর্ক

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাবনার এই দুটি আসনেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা সামান্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন, যা মেনে নিতে নারাজ বিএনপি।

  • পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর): জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ আলী আছগর ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাসান জাফির পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট। অর্থাৎ জয়ের ব্যবধান মাত্র ৩,২৬৯ ভোট।

  • পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া): এই আসনে জামায়াতের মো. আবু তালেব মন্ডল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৫ ভোট। এখানে ভোটের ব্যবধান ৩,৮০০।

মাঠের চিত্র ও বিক্ষোভ

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুই নির্বাচনী এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দিকে আসতে থাকেন। বিকেল ৪টার দিকে তারা কার্যালয় ঘেরাও করে জামায়াতের বিরুদ্ধে এবং ভোট পুনর্গণনার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় এলাকায় সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়।

বিএনপির অভিযোগ: ‘গণনায় জালিয়াতি’

বিক্ষোভরত নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ভোট গণনায় ব্যাপক অসামঞ্জস্য রয়েছে। তাদের দাবি: ১. বাতিল ভোটের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখানো হয়েছে। ২. অনেক কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের ভয় দেখিয়ে ফলাফল শিটে সই নেওয়া হয়েছে। ৩. কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের হিসাবের সাথে চূড়ান্ত ফলাফলের গরমিল রয়েছে।

পাবনা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভোট গণনায় পুরোপুরি জালিয়াতি করা হয়েছে। আমরা এই ফলাফল মানি না এবং অবিলম্বে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানাচ্ছি।

প্রশাসনের আশ্বাস ও বর্তমান পরিস্থিতি

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আব্দুল আলীম জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক দুই আসনের বিএনপি প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রার্থীদের দাবির বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করার আশ্বাস দেওয়া হলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে নেতা-কর্মীরা অবরোধ তুলে নেন।

তবে বিএনপি নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্রুত দাবি মানা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

পাবনায় দুই আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি: জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে বিএনপির বিক্ষোভ

প্রকাশঃ ০৮:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা। আজ শুক্রবার বিকেলে পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। ছবি: সংগৃহীত


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনের ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। আজ শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার নেতা-কর্মী পাবনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

ভোটের ব্যবধান ও ফলাফল বিতর্ক

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাবনার এই দুটি আসনেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা সামান্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন, যা মেনে নিতে নারাজ বিএনপি।

  • পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর): জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ আলী আছগর ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাসান জাফির পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট। অর্থাৎ জয়ের ব্যবধান মাত্র ৩,২৬৯ ভোট।

  • পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া): এই আসনে জামায়াতের মো. আবু তালেব মন্ডল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৫ ভোট। এখানে ভোটের ব্যবধান ৩,৮০০।

মাঠের চিত্র ও বিক্ষোভ

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুই নির্বাচনী এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দিকে আসতে থাকেন। বিকেল ৪টার দিকে তারা কার্যালয় ঘেরাও করে জামায়াতের বিরুদ্ধে এবং ভোট পুনর্গণনার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় এলাকায় সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়।

বিএনপির অভিযোগ: ‘গণনায় জালিয়াতি’

বিক্ষোভরত নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ভোট গণনায় ব্যাপক অসামঞ্জস্য রয়েছে। তাদের দাবি: ১. বাতিল ভোটের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখানো হয়েছে। ২. অনেক কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের ভয় দেখিয়ে ফলাফল শিটে সই নেওয়া হয়েছে। ৩. কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের হিসাবের সাথে চূড়ান্ত ফলাফলের গরমিল রয়েছে।

পাবনা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভোট গণনায় পুরোপুরি জালিয়াতি করা হয়েছে। আমরা এই ফলাফল মানি না এবং অবিলম্বে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানাচ্ছি।

প্রশাসনের আশ্বাস ও বর্তমান পরিস্থিতি

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আব্দুল আলীম জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক দুই আসনের বিএনপি প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রার্থীদের দাবির বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করার আশ্বাস দেওয়া হলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে নেতা-কর্মীরা অবরোধ তুলে নেন।

তবে বিএনপি নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্রুত দাবি মানা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”