ঢাকা ০৬:২৯ , Sun, ১২ Jul ২০২৬

স্বপ্নের আমেরিকা: লোভ, ভোগবিলাসিতা নাকি পারিবারিক দায়বদ্ধতার সংকট?

আনিসুর বুলবুল
  • প্রকাশঃ ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬
  • / 9
ছবি: কোলাজ / প্রজন্ম কথা

গতকাল দেখলাম, ৭০ বছরের বেশি বয়সী এক বৃদ্ধ রাস্তা থেকে বিয়ার, পানির ও কোমল পানীয়ের খালি বোতল সংগ্রহ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যে এসব বোতল রিসাইক্লিং সেন্টারে জমা দিলে ২০টি বোতলের বিপরীতে পাওয়া যায় মাত্র ১ ডলার।

আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি কি হোম কেয়ার, ফুড স্ট্যাম্প বা অন্য কোনো সরকারি সুবিধা পান না?” তিনি শান্তভাবে উত্তর দিলেন, “আমি নতুন এসেছি, তাই এখনো এসব সুবিধা পাইনি।”

আমি কোনো কাজকে ছোট করে দেখি না। সৎ পরিশ্রম সব সময়ই সম্মানের। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ৭০ বছরের একজন মানুষকে এই প্রচণ্ড গরমে মাইলের পর মাইল হাঁটতে হবে কেন? জীবনের এই পর্যায়ে তার ইবাদত, বিশ্রাম এবং পরিবারের সান্নিধ্যে সময় কাটানোর কথা।

ইদানীং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অনেক বাংলাদেশি বৃদ্ধ নারীকে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে দেখি। আবার অনেক বৃদ্ধকে খালি বোতল সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতে দেখি। দেশ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু এই দৃশ্যগুলো একই রকম কষ্ট দেয়। একজন মা বা বাবাকে এমন পরিস্থিতিতে দেখলে মন ভারী হয়ে যায়।

আমি হোম কেয়ার বা অন্য কোনো অনিয়মের প্রসঙ্গে যেতে চাই না। আমার প্রশ্ন আরও মৌলিক। আপনি যদি আপনার মা-বাবার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে না পারেন, তাহলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার প্রয়োজন কী? আর যদি তাদের যথাযথভাবে দেখভাল করার সামর্থ্য বা প্রস্তুতি না থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে ভাবা উচিত।

বাংলাদেশের বহু দিনমজুর, কৃষক কিংবা নিম্ন আয়ের মানুষও সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালন করেন। তাহলে বিদেশে বসবাসকারী, তুলনামূলক বেশি সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্ত আমরা কেন অনেক ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছি?

এটি কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়। এটি আমাদের কমিউনিটির প্রতি একটি আত্মসমালোচনার আহ্বান। আমরা কি ধীরে ধীরে অর্থ, ব্যস্ততা ও ভোগবিলাসের পেছনে ছুটতে গিয়ে পারিবারিক দায়বদ্ধতা ভুলে যাচ্ছি? ডলারের হিসাব করতে গিয়ে কি বাবা-মায়ের প্রাপ্য সম্মান, নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তির কথা উপেক্ষা করছি? আমাদের বিবেক কি আগের মতোই সংবেদনশীল আছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের প্রত্যেকের নিজের কাছে আছে। কারণ একটি সমাজের প্রকৃত উন্নতি তার আয় দিয়ে নয়, বরং সে তার প্রবীণ মা-বাবাকে কতটা সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা দিতে পারে, তা দিয়েই পরিমাপ করা যায়।

❤️
👏
🙂
😞

স্বপ্নের আমেরিকা: লোভ, ভোগবিলাসিতা নাকি পারিবারিক দায়বদ্ধতার সংকট?

প্রকাশঃ ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬

গতকাল দেখলাম, ৭০ বছরের বেশি বয়সী এক বৃদ্ধ রাস্তা থেকে বিয়ার, পানির ও কোমল পানীয়ের খালি বোতল সংগ্রহ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যে এসব বোতল রিসাইক্লিং সেন্টারে জমা দিলে ২০টি বোতলের বিপরীতে পাওয়া যায় মাত্র ১ ডলার।

আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি কি হোম কেয়ার, ফুড স্ট্যাম্প বা অন্য কোনো সরকারি সুবিধা পান না?” তিনি শান্তভাবে উত্তর দিলেন, “আমি নতুন এসেছি, তাই এখনো এসব সুবিধা পাইনি।”

আমি কোনো কাজকে ছোট করে দেখি না। সৎ পরিশ্রম সব সময়ই সম্মানের। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ৭০ বছরের একজন মানুষকে এই প্রচণ্ড গরমে মাইলের পর মাইল হাঁটতে হবে কেন? জীবনের এই পর্যায়ে তার ইবাদত, বিশ্রাম এবং পরিবারের সান্নিধ্যে সময় কাটানোর কথা।

ইদানীং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অনেক বাংলাদেশি বৃদ্ধ নারীকে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে দেখি। আবার অনেক বৃদ্ধকে খালি বোতল সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতে দেখি। দেশ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু এই দৃশ্যগুলো একই রকম কষ্ট দেয়। একজন মা বা বাবাকে এমন পরিস্থিতিতে দেখলে মন ভারী হয়ে যায়।

আমি হোম কেয়ার বা অন্য কোনো অনিয়মের প্রসঙ্গে যেতে চাই না। আমার প্রশ্ন আরও মৌলিক। আপনি যদি আপনার মা-বাবার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে না পারেন, তাহলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার প্রয়োজন কী? আর যদি তাদের যথাযথভাবে দেখভাল করার সামর্থ্য বা প্রস্তুতি না থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে ভাবা উচিত।

বাংলাদেশের বহু দিনমজুর, কৃষক কিংবা নিম্ন আয়ের মানুষও সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালন করেন। তাহলে বিদেশে বসবাসকারী, তুলনামূলক বেশি সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্ত আমরা কেন অনেক ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছি?

এটি কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়। এটি আমাদের কমিউনিটির প্রতি একটি আত্মসমালোচনার আহ্বান। আমরা কি ধীরে ধীরে অর্থ, ব্যস্ততা ও ভোগবিলাসের পেছনে ছুটতে গিয়ে পারিবারিক দায়বদ্ধতা ভুলে যাচ্ছি? ডলারের হিসাব করতে গিয়ে কি বাবা-মায়ের প্রাপ্য সম্মান, নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তির কথা উপেক্ষা করছি? আমাদের বিবেক কি আগের মতোই সংবেদনশীল আছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের প্রত্যেকের নিজের কাছে আছে। কারণ একটি সমাজের প্রকৃত উন্নতি তার আয় দিয়ে নয়, বরং সে তার প্রবীণ মা-বাবাকে কতটা সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা দিতে পারে, তা দিয়েই পরিমাপ করা যায়।