ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত, তিস্তা থেকে ব্রিকস পর্যন্ত ১৩ খাতে সহযোগিতার রূপরেখা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৪:০৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • / 3

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার লক্ষ্যে অন্তত ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষা যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক করিডোর, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং ব্রিকসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সমঝোতার রূপরেখা উঠে এসেছে সফর শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে।

গত শনিবার (২১ জুন) দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফর শেষে সোমবার রাতে তিনি চীনের দালিয়ানে পৌঁছান। সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘সামার দাভোস ২০২৬’ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর বুধবার বেইজিংয়ে যান। সফরকালে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নেন। সফরের শেষ দিনে শুক্রবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে ওই রাতেই দেশে ফেরেন।

সফর শেষে প্রকাশিত বাংলাদেশ-চীনের যৌথ বিবৃতিতে রাজনৈতিক আস্থা আরও গভীর করা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, তিস্তা নদী প্রকল্পে অগ্রগতি, প্রতিরক্ষা যোগাযোগ জোরদার, বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে সমর্থন এবং প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে নতুন অংশীদারত্বের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে ভবিষ্যতে দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠ কৌশলগত যোগাযোগ, উন্নয়ন অংশীদারত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমন্বিত অবস্থান গড়ে তুলবে। রাজনীতি, প্রতিরক্ষা, পানি ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ অন্তত ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত হয়েছে ঢাকা ও বেইজিং।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক

যৌথ বিবৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

এ লক্ষ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সফর অব্যাহত রাখা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ (স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগ) চালু করা এবং পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে সম্ভাব্য ‘২+২’ সংলাপ শুরু করার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, আইনসভা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগও বাড়ানো হবে।

সার্বভৌমত্ব ও ‘ওয়ান চায়না’ নীতিতে পারস্পরিক সমর্থন

বাংলাদেশ আবারও ‘ওয়ান চায়না’ নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বাংলাদেশ তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে।

অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং নিজস্ব উন্নয়নপথ অনুসরণের অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

অর্থনীতি ও বাণিজ্য

অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে দুই দেশ শূন্য শুল্ক সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার, বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়ন, ই-কমার্স এবং আরও বেশি চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণে একসঙ্গে কাজ করবে।

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মোংলা বন্দরের উন্নয়নসহ বিভিন্ন শিল্প ও অবকাঠামো প্রকল্পে।

বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) বাস্তবায়নের পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন ছোট আকারের উন্নয়ন প্রকল্পেও গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।

তিস্তা ও পানি ব্যবস্থাপনা

যৌথ বিবৃতির অন্যতম আলোচিত বিষয় তিস্তা নদী।

চীন জানিয়েছে, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজেদের সক্ষমতার মধ্যে সহযোগিতা করবে এবং যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত শেষ করতে কাজ করবে।

এ ছাড়া নদী ব্যবস্থাপনা, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও জোরদারের কথাও বলা হয়েছে।

অবকাঠামো, সংযোগ ও সবুজ উন্নয়ন

দুই দেশ আঞ্চলিক সংযোগ, পরিবহন অবকাঠামো, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সবুজ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সৌরশক্তি এবং সবুজ রূপান্তরকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

যৌথ বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

দুই দেশ সামরিক প্রতিনিধিদল বিনিময়, প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা সংলাপ, সামরিক শিক্ষা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনগণের যোগাযোগ

শিক্ষা, গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা, কারিগরি শিক্ষা, বৃত্তি, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক, যুব বিনিময়, খেলাধুলা ও পর্যটনসহ জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, জনস্বাস্থ্য, ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা এবং চিকিৎসা প্রযুক্তি খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতি

ডিজিটাল অর্থনীতি, উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ও চীন।

বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনে চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ও যৌথ বিবৃতিতে উঠে এসেছে।

জলবায়ু ও পরিবেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে দুই দেশ।

বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও ব্রিকস

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারস্পরিক সমর্থনের বিষয়টিও যৌথ বিবৃতিতে গুরুত্ব পেয়েছে।

বাংলাদেশ চীনের বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে চীন ব্রিকসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রচেষ্টা, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও জোরদারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে।

রোহিঙ্গা সংকট

যৌথ বিবৃতিতে রোহিঙ্গা সংকটেরও উল্লেখ রয়েছে।

চীন জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য গঠনমূলক ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে।

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত, তিস্তা থেকে ব্রিকস পর্যন্ত ১৩ খাতে সহযোগিতার রূপরেখা

প্রকাশঃ ০৪:০৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার লক্ষ্যে অন্তত ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষা যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক করিডোর, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং ব্রিকসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সমঝোতার রূপরেখা উঠে এসেছে সফর শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে।

গত শনিবার (২১ জুন) দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফর শেষে সোমবার রাতে তিনি চীনের দালিয়ানে পৌঁছান। সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘সামার দাভোস ২০২৬’ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর বুধবার বেইজিংয়ে যান। সফরকালে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নেন। সফরের শেষ দিনে শুক্রবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে ওই রাতেই দেশে ফেরেন।

সফর শেষে প্রকাশিত বাংলাদেশ-চীনের যৌথ বিবৃতিতে রাজনৈতিক আস্থা আরও গভীর করা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, তিস্তা নদী প্রকল্পে অগ্রগতি, প্রতিরক্ষা যোগাযোগ জোরদার, বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে সমর্থন এবং প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে নতুন অংশীদারত্বের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে ভবিষ্যতে দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠ কৌশলগত যোগাযোগ, উন্নয়ন অংশীদারত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমন্বিত অবস্থান গড়ে তুলবে। রাজনীতি, প্রতিরক্ষা, পানি ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ অন্তত ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত হয়েছে ঢাকা ও বেইজিং।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক

যৌথ বিবৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

এ লক্ষ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সফর অব্যাহত রাখা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ (স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগ) চালু করা এবং পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে সম্ভাব্য ‘২+২’ সংলাপ শুরু করার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, আইনসভা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগও বাড়ানো হবে।

সার্বভৌমত্ব ও ‘ওয়ান চায়না’ নীতিতে পারস্পরিক সমর্থন

বাংলাদেশ আবারও ‘ওয়ান চায়না’ নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বাংলাদেশ তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে।

অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং নিজস্ব উন্নয়নপথ অনুসরণের অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

অর্থনীতি ও বাণিজ্য

অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে দুই দেশ শূন্য শুল্ক সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার, বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়ন, ই-কমার্স এবং আরও বেশি চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণে একসঙ্গে কাজ করবে।

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মোংলা বন্দরের উন্নয়নসহ বিভিন্ন শিল্প ও অবকাঠামো প্রকল্পে।

বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) বাস্তবায়নের পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন ছোট আকারের উন্নয়ন প্রকল্পেও গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।

তিস্তা ও পানি ব্যবস্থাপনা

যৌথ বিবৃতির অন্যতম আলোচিত বিষয় তিস্তা নদী।

চীন জানিয়েছে, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজেদের সক্ষমতার মধ্যে সহযোগিতা করবে এবং যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত শেষ করতে কাজ করবে।

এ ছাড়া নদী ব্যবস্থাপনা, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও জোরদারের কথাও বলা হয়েছে।

অবকাঠামো, সংযোগ ও সবুজ উন্নয়ন

দুই দেশ আঞ্চলিক সংযোগ, পরিবহন অবকাঠামো, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সবুজ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সৌরশক্তি এবং সবুজ রূপান্তরকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

যৌথ বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

দুই দেশ সামরিক প্রতিনিধিদল বিনিময়, প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা সংলাপ, সামরিক শিক্ষা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনগণের যোগাযোগ

শিক্ষা, গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা, কারিগরি শিক্ষা, বৃত্তি, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক, যুব বিনিময়, খেলাধুলা ও পর্যটনসহ জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, জনস্বাস্থ্য, ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা এবং চিকিৎসা প্রযুক্তি খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতি

ডিজিটাল অর্থনীতি, উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ও চীন।

বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনে চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ও যৌথ বিবৃতিতে উঠে এসেছে।

জলবায়ু ও পরিবেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে দুই দেশ।

বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও ব্রিকস

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারস্পরিক সমর্থনের বিষয়টিও যৌথ বিবৃতিতে গুরুত্ব পেয়েছে।

বাংলাদেশ চীনের বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে চীন ব্রিকসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রচেষ্টা, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও জোরদারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে।

রোহিঙ্গা সংকট

যৌথ বিবৃতিতে রোহিঙ্গা সংকটেরও উল্লেখ রয়েছে।

চীন জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য গঠনমূলক ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে।