ঢাকা ০৪:৪২ , Thu, ০৯ Jul ২০২৬
বিশ্বসমাচার
আমেরিকা

আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে আবারও সুপ্রিম কোর্টে যেতে চান ট্রাম্প

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৮
  • / 17
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পুনঃশুনানি চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি: এএফপি / ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দেওয়া সাম্প্রতিক রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব “বিক্রির জন্য নয়” এবং আদালতের রায় ভুল হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) সীমিত করার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় পুনর্বিবেচনার জন্য তিনি অবিলম্বে আবেদন করবেন। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমেরিকান নাগরিকত্ব বিক্রির জন্য নয়। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি অপরাধ। তাই সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ভুল। আমি অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে পুনঃশুনানির আবেদন করব।”

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে ট্রাম্প প্রশাসনের সেই নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে রায় দেয়, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এমন শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব বন্ধের উদ্যোগ নেন, যাদের বাবা-মা অস্থায়ী বৈধ অবস্থানে ছিলেন অথবা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাস করছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প এটিকে দেশের জন্য “খুবই দুঃখজনক” বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে নতুন আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এমন আইন পাস করানো সহজ হবে না। জনমত জরিপগুলোতে দেখা যায়, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের প্রতি এখনো ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের মতামতেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এ ধরনের মৌলিক পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টে পুনঃশুনানির আবেদন গ্রহণ হওয়ার সম্ভাবনাও খুবই কম। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত খুব কম ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় পুনরায় শুনানির অনুমতি দেয়। এমন নজিরও কয়েক দশক ধরে দেখা যায়নি।

দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট তার কয়েকটি অভিবাসন-সংক্রান্ত পদক্ষেপের পক্ষে রায় দিয়েছিল। এর মধ্যে সংকটাপন্ন কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য বিদ্যমান অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (Temporary Protected Status) কার্যত বাতিলের সুযোগ এবং আশ্রয়প্রার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে প্রবেশে বাধা দেওয়ার নীতিও ছিল।

তবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ক্ষেত্রে আদালত ট্রাম্পের অবস্থান সমর্থন করেনি। বিচারপতিরা রায়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির বিচারিক এখতিয়ারের আওতাভুক্ত ব্যক্তিরা নাগরিকত্ব লাভ করবেন। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ওই সাংবিধানিক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। মামলায় আবেদনকারীদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে অংশ নেওয়া আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (ACLU) আইনজীবী সিসিলিয়া ওয়াং বলেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে, “আপনি যদি এই দেশে জন্ম নেন, তবে আপনি একজন মার্কিন নাগরিক।”

এদিকে, মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট ও পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই আদেশ কার্যকর হলে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার শিশু যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিয়েও নাগরিকত্ব পেত না। এর ফলে ২০৪৫ সালের মধ্যে দেশটিতে অনথিভুক্ত মানুষের সংখ্যা আরও প্রায় ২৭ লাখ বেড়ে যেতে পারে।

গবেষণায় আরও সতর্ক করে বলা হয়, এমন নীতি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলমান সামাজিক বৈষম্যের শ্রেণি তৈরি হতে পারে, যেখানে দেশটিতে জন্ম নেওয়া সন্তানরাও তাদের বাবা-মায়ের আইনি ও সামাজিক অনিশ্চয়তার উত্তরাধিকার বহন করবে।

❤️
👏
🙂
😞

আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে আবারও সুপ্রিম কোর্টে যেতে চান ট্রাম্প

প্রকাশঃ ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৮

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দেওয়া সাম্প্রতিক রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব “বিক্রির জন্য নয়” এবং আদালতের রায় ভুল হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) সীমিত করার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় পুনর্বিবেচনার জন্য তিনি অবিলম্বে আবেদন করবেন। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমেরিকান নাগরিকত্ব বিক্রির জন্য নয়। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি অপরাধ। তাই সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ভুল। আমি অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে পুনঃশুনানির আবেদন করব।”

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে ট্রাম্প প্রশাসনের সেই নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে রায় দেয়, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এমন শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব বন্ধের উদ্যোগ নেন, যাদের বাবা-মা অস্থায়ী বৈধ অবস্থানে ছিলেন অথবা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাস করছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প এটিকে দেশের জন্য “খুবই দুঃখজনক” বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে নতুন আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এমন আইন পাস করানো সহজ হবে না। জনমত জরিপগুলোতে দেখা যায়, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের প্রতি এখনো ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের মতামতেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এ ধরনের মৌলিক পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টে পুনঃশুনানির আবেদন গ্রহণ হওয়ার সম্ভাবনাও খুবই কম। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত খুব কম ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় পুনরায় শুনানির অনুমতি দেয়। এমন নজিরও কয়েক দশক ধরে দেখা যায়নি।

দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট তার কয়েকটি অভিবাসন-সংক্রান্ত পদক্ষেপের পক্ষে রায় দিয়েছিল। এর মধ্যে সংকটাপন্ন কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য বিদ্যমান অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (Temporary Protected Status) কার্যত বাতিলের সুযোগ এবং আশ্রয়প্রার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে প্রবেশে বাধা দেওয়ার নীতিও ছিল।

তবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ক্ষেত্রে আদালত ট্রাম্পের অবস্থান সমর্থন করেনি। বিচারপতিরা রায়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির বিচারিক এখতিয়ারের আওতাভুক্ত ব্যক্তিরা নাগরিকত্ব লাভ করবেন। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ওই সাংবিধানিক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। মামলায় আবেদনকারীদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে অংশ নেওয়া আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (ACLU) আইনজীবী সিসিলিয়া ওয়াং বলেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে, “আপনি যদি এই দেশে জন্ম নেন, তবে আপনি একজন মার্কিন নাগরিক।”

এদিকে, মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট ও পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই আদেশ কার্যকর হলে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার শিশু যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিয়েও নাগরিকত্ব পেত না। এর ফলে ২০৪৫ সালের মধ্যে দেশটিতে অনথিভুক্ত মানুষের সংখ্যা আরও প্রায় ২৭ লাখ বেড়ে যেতে পারে।

গবেষণায় আরও সতর্ক করে বলা হয়, এমন নীতি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলমান সামাজিক বৈষম্যের শ্রেণি তৈরি হতে পারে, যেখানে দেশটিতে জন্ম নেওয়া সন্তানরাও তাদের বাবা-মায়ের আইনি ও সামাজিক অনিশ্চয়তার উত্তরাধিকার বহন করবে।