বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী ইইউ, শিগগিরই আসছে কারিগরি দল
- প্রকাশঃ ১০ জুলাই ২০২৬, ১৯:০৭
- / 4
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে শিগগিরই একটি কারিগরি দল বাংলাদেশ সফর করবে।
গত ৯ জুলাই অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কার্যালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত এবং স্পেনের রাষ্ট্রদূত এ আগ্রহের কথা জানান। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ইইউর একটি কারিগরি কমিটি বাংলাদেশ সফর করবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, এফটিএ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপও প্রণয়ন করবে কমিটি।
বৈঠকে নিজ নিজ পক্ষের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগগুলো দূর করা, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা এবং বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমাতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে বৈঠকে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ইইউর সঙ্গে ভবিষ্যৎ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ইইউ উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং আন্তর্জাতিক সব বাধ্যবাধকতা পূরণে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা আরও জোরদার করে সরকার বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত হবে, জ্বালানি-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমবে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।
এলডিসি-পরবর্তী সময়ে নির্বিঘ্ন উত্তরণ নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশ-ইইউর মধ্যে একটি সমন্বিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথ সুগম করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শুরু করতে ইইউ প্রস্তুত। এ বিষয়ে তারা ইতোমধ্যে সরকারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও জমা দিয়েছে।
তিনি ভবিষ্যৎ আলোচনায় অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে সময়োপযোগী সংস্কার, অশুল্ক বাধা অপসারণ এবং ব্যবসার পরিবেশ আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা ভোগ করছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও এ সুবিধা আরও তিন বছর বহাল থাকবে। এরপরও যাতে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা অব্যাহত থাকে, সে লক্ষ্যেই ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে চায় সরকার।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম ও ভারত ইতোমধ্যেই ইইউর সঙ্গে এ ধরনের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আখতার।
























