ঢাকা ০৬:২৯ , Sun, ১২ Jul ২০২৬
খেলাধুলা
ফুটবল

চোখে রক্ত, তবু মাঠ ছাড়েননি মেসি; অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

খেলা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৪
  • / 6
ডান চোখে আঘাত ও রক্তপাতের পরও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ চালিয়ে যান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি ছবি: কোলাজ / প্রজন্ম কথা

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় পড়ে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ডান চোখের পাশে কেটে রক্তপাত হলেও মাঠ ছাড়েননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে খেলা চালিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেসের গোলে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করেন আলেক্সিস মাক আলিস্টার। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির রেকর্ড দশম অ্যাসিস্ট। সেই গোলে দ্রুতই এগিয়ে যায় লিওনেল স্কালোনির দল।

গোলের পর আর্জেন্টিনা কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়লে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে সুইজারল্যান্ড। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ বাড়ালেও প্রথমার্ধে এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে খুব বেশি পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি সুইসরা। ফলে ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি পাল্টে যায়। আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সুইজারল্যান্ড এবং ৬৭ মিনিটে সমতায় ফেরে। রিকার্দো রদ্রিগেসের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ার পর বাঁ প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন দান এনদোয়ে।

এর কিছুক্ষণ পরই ম্যাচে ঘটে আলোচিত একটি ঘটনা। প্রথমে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি জোয়াও পেদ্রো সিলভা পিনেইরো। পরে ভিএআরের পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত বদলে পারেদেসের কার্ড বাতিল করা হয় এবং অভিনয়ের দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয় ব্রিল এমবোলোকে। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড।

একজন বেশি নিয়ে খেললেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ে মেসির বাঁ পায়ের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়েও একের পর এক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। গ্রেগর কোবেল দুর্দান্ত সেভ করে থিয়াগো আলমাদা, মেসি ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। মনে হচ্ছিল ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়াবে।

তবে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন বদলি খেলোয়াড়রা। ১১০ মিনিটে মাঠে নামেন হোসে মানুয়েল লোপেস। দুই মিনিট পর তাঁর বাড়ানো বল বক্সের বাঁ প্রান্তে পেয়ে অসাধারণ এক বাঁকানো শটে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেস। বিশ্বকাপে এবারের আসরে এটিই ছিল তাঁর প্রথম গোল, যা আসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।

সুইজারল্যান্ড এরপর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা প্রথম মিনিটে তাদের সব আশা শেষ করে দেয় আর্জেন্টিনা। গ্রানিত জাকার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন আলভারেস। থিয়াগো আলমাদার শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন কোবেল। তবে ফিরতি বলে কোনো ভুল করেননি লাউতারো মার্তিনেস। ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার জন্য আরেকটি উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠেন লিওনেল মেসি। এক পর্যায়ে তাঁর ডান চোখের পাশে কেটে রক্ত পড়তে দেখা যায়। ঘটনাটি রেফারির নজর এড়িয়ে যায়। রিপ্লেতে দেখা যায়, চোখের পাশ বেয়ে রক্ত ঝরছে এবং মেসি বারবার পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

পরে দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন বিরতিতে আর্জেন্টিনা দলের চিকিৎসক তাঁর চোখ পরীক্ষা করেন। তখন ডান চোখের চারপাশে ফোলাও দেখা যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর আবার মাঠে ফিরে দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। চোখে কাটা ও রক্তপাত সত্ত্বেও ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ম্যাচ ছেড়ে যাননি। অস্বস্তি নিয়েই অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলেন এবং দলের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন মেসি ও তাঁর সতীর্থরা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা আবারও প্রমাণ করল, নকআউট পর্বে তাদের হারানো সহজ নয়। আগামী বুধবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

❤️
👏
🙂
😞

চোখে রক্ত, তবু মাঠ ছাড়েননি মেসি; অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

প্রকাশঃ ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৪

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় পড়ে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ডান চোখের পাশে কেটে রক্তপাত হলেও মাঠ ছাড়েননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে খেলা চালিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেসের গোলে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করেন আলেক্সিস মাক আলিস্টার। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির রেকর্ড দশম অ্যাসিস্ট। সেই গোলে দ্রুতই এগিয়ে যায় লিওনেল স্কালোনির দল।

গোলের পর আর্জেন্টিনা কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়লে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে সুইজারল্যান্ড। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ বাড়ালেও প্রথমার্ধে এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে খুব বেশি পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি সুইসরা। ফলে ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি পাল্টে যায়। আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সুইজারল্যান্ড এবং ৬৭ মিনিটে সমতায় ফেরে। রিকার্দো রদ্রিগেসের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ার পর বাঁ প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন দান এনদোয়ে।

এর কিছুক্ষণ পরই ম্যাচে ঘটে আলোচিত একটি ঘটনা। প্রথমে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি জোয়াও পেদ্রো সিলভা পিনেইরো। পরে ভিএআরের পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত বদলে পারেদেসের কার্ড বাতিল করা হয় এবং অভিনয়ের দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয় ব্রিল এমবোলোকে। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড।

একজন বেশি নিয়ে খেললেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ে মেসির বাঁ পায়ের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়েও একের পর এক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। গ্রেগর কোবেল দুর্দান্ত সেভ করে থিয়াগো আলমাদা, মেসি ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। মনে হচ্ছিল ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়াবে।

তবে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন বদলি খেলোয়াড়রা। ১১০ মিনিটে মাঠে নামেন হোসে মানুয়েল লোপেস। দুই মিনিট পর তাঁর বাড়ানো বল বক্সের বাঁ প্রান্তে পেয়ে অসাধারণ এক বাঁকানো শটে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেস। বিশ্বকাপে এবারের আসরে এটিই ছিল তাঁর প্রথম গোল, যা আসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।

সুইজারল্যান্ড এরপর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা প্রথম মিনিটে তাদের সব আশা শেষ করে দেয় আর্জেন্টিনা। গ্রানিত জাকার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন আলভারেস। থিয়াগো আলমাদার শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন কোবেল। তবে ফিরতি বলে কোনো ভুল করেননি লাউতারো মার্তিনেস। ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার জন্য আরেকটি উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠেন লিওনেল মেসি। এক পর্যায়ে তাঁর ডান চোখের পাশে কেটে রক্ত পড়তে দেখা যায়। ঘটনাটি রেফারির নজর এড়িয়ে যায়। রিপ্লেতে দেখা যায়, চোখের পাশ বেয়ে রক্ত ঝরছে এবং মেসি বারবার পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

পরে দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন বিরতিতে আর্জেন্টিনা দলের চিকিৎসক তাঁর চোখ পরীক্ষা করেন। তখন ডান চোখের চারপাশে ফোলাও দেখা যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর আবার মাঠে ফিরে দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। চোখে কাটা ও রক্তপাত সত্ত্বেও ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ম্যাচ ছেড়ে যাননি। অস্বস্তি নিয়েই অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলেন এবং দলের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন মেসি ও তাঁর সতীর্থরা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা আবারও প্রমাণ করল, নকআউট পর্বে তাদের হারানো সহজ নয়। আগামী বুধবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।