ঢাকা ০৭:৫৯ , Fri, ১৭ Jul ২০২৬
বিশ্বসমাচার
চীন

নতুন বৈশ্বিক এআই ব্যবস্থার নেতৃত্বে চীন, যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করলো শি জিনপিং

নোমান রায়হান
  • প্রকাশঃ ১৭ জুলাই ২০২৬, ১৯:৪০
  • / 3
সাংহাইয়ে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ছবি: রয়টার্স

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে নতুন বৈশ্বিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে চায় বেইজিং। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও মানদণ্ড নির্ধারণে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত চীন।

শুক্রবার সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে শি জিনপিং বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিকাশে অসম প্রবেশাধিকার নতুন ধরনের বৈশ্বিক বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শিল্পবিপ্লবের বাষ্পচালিত ইঞ্জিন এবং বিদ্যুতের আবিষ্কারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, প্রযুক্তির এই যুগান্তকারী পরিবর্তনের সুফল ধনী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এ লক্ষ্যেই উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে প্রস্তুত রয়েছে চীন।

শি জিনপিংয়ের বক্তব্যে উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে বৈশ্বিক জনসম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যও উঠে আসে। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। যদিও তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি ও জোটের প্রতি পরোক্ষ সমালোচনার ইঙ্গিত ছিল।

ভাষণে তিনি জানান, ব্রিকস, আসিয়ান, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সহযোগিতা কেন্দ্র গড়ে তুলবে চীন। এ ছাড়া চীনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা’কে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন শি জিনপিং। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ২৯টি দেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে।

প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন চীনের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, জরুরি প্রতিক্রিয়া কাঠামো এবং এমন নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে স্বয়ংক্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনো মানব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে না পারে।

এই সম্মেলন এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা আরও জোরালো হয়েছে। সম্প্রতি বেইজিংভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ‘মুনশট’ বিশ্বের বৃহৎ উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলোর একটি ‘কিমি কে-৩’ উন্মোচন করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করছে।

আগামী দিনে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চীনের প্রথম উচ্চপর্যায়ের সরকারি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

❤️
👏
🙂
😞

নতুন বৈশ্বিক এআই ব্যবস্থার নেতৃত্বে চীন, যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করলো শি জিনপিং

প্রকাশঃ ১৭ জুলাই ২০২৬, ১৯:৪০

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে নতুন বৈশ্বিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে চায় বেইজিং। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও মানদণ্ড নির্ধারণে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত চীন।

শুক্রবার সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে শি জিনপিং বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিকাশে অসম প্রবেশাধিকার নতুন ধরনের বৈশ্বিক বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শিল্পবিপ্লবের বাষ্পচালিত ইঞ্জিন এবং বিদ্যুতের আবিষ্কারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, প্রযুক্তির এই যুগান্তকারী পরিবর্তনের সুফল ধনী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এ লক্ষ্যেই উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে প্রস্তুত রয়েছে চীন।

শি জিনপিংয়ের বক্তব্যে উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে বৈশ্বিক জনসম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যও উঠে আসে। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। যদিও তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি ও জোটের প্রতি পরোক্ষ সমালোচনার ইঙ্গিত ছিল।

ভাষণে তিনি জানান, ব্রিকস, আসিয়ান, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সহযোগিতা কেন্দ্র গড়ে তুলবে চীন। এ ছাড়া চীনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা’কে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন শি জিনপিং। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ২৯টি দেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে।

প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন চীনের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, জরুরি প্রতিক্রিয়া কাঠামো এবং এমন নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে স্বয়ংক্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনো মানব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে না পারে।

এই সম্মেলন এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা আরও জোরালো হয়েছে। সম্প্রতি বেইজিংভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ‘মুনশট’ বিশ্বের বৃহৎ উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলোর একটি ‘কিমি কে-৩’ উন্মোচন করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করছে।

আগামী দিনে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চীনের প্রথম উচ্চপর্যায়ের সরকারি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।