মহাকাশের আন্তঃনাক্ষত্রিক অঞ্চলে প্রথমবারের মতো পাওয়া গেল চিনি
- প্রকাশঃ ১৪ জুলাই ২০২৬, ২১:৫২
- / 2
মহাকাশের আন্তঃনাক্ষত্রিক অঞ্চলে প্রথমবারের মতো একটি প্রকৃত চিনির অণু শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার পৃথিবীতে চিনির উৎস এবং প্রাণের উৎপত্তি সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে। পাশাপাশি মহাবিশ্বের অন্য কোথাও প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা নিয়েও গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার অ্যাস্ট্রোনমি-তে সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়। গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন স্পেনের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোবায়োলজির অ্যাস্ট্রোকেমিস্ট ড. ইজাসকুন জিমেনেজ-সেরা।
গবেষণায় বলা হয়েছে, মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যমে, যেখানে নক্ষত্রগুলোর মাঝখানে গ্যাস ও ধুলিকণা ছড়িয়ে রয়েছে, সেখানেই এই চিনির অণু শনাক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, এই অঞ্চল জটিল জৈব অণু তৈরির একটি প্রাকৃতিক রাসায়নিক কারখানা হিসেবে কাজ করে।
গবেষণার প্রধান ড. ইজাসকুন জিমেনেজ-সেরা বলেন, চিনির অণুর উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়ার মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। তবে ফলাফল নিশ্চিত করতে গবেষকরা বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান, যাতে এটি অন্য কোনো অণু বা পর্যবেক্ষণজনিত ত্রুটি না হয়। একাধিক বিশ্লেষণেও একই ফল পাওয়ার পরই তারা নিশ্চিত হন।
গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অ্যাস্ট্রোকেমিস্ট ব্রেট ম্যাকগুয়ার এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, গবেষণার তথ্য ও বিশ্লেষণ স্পষ্টভাবে দেখায় যে আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যমে সত্যিই চিনির অণুর উপস্থিতি রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই জানতেন, পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশে চিনি অপরিহার্য। কারণ আরএনএ ও ডিএনএ গঠনে বিভিন্ন ধরনের চিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে পৃথিবীর প্রাথমিক পরিবেশ পরীক্ষাগারে অনুকরণ করেও এসব চিনির অণু তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে গ্রহাণু ও উল্কাপিণ্ডে গ্লুকোজ ও রাইবোজসহ বিভিন্ন ধরনের চিনির অস্তিত্ব শনাক্ত করা হলেও সেগুলোর মূল উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছিল না। নতুন গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ গঠনেরও আগে আন্তঃনাক্ষত্রিক পরিবেশেই এসব চিনির অণু তৈরি হতে পারে। পরে গ্রহাণু ও ধূমকেতুর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ চিনি পৃথিবীতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, পৃথিবীর প্রাথমিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রায় ৫ লাখ টন থেকে ৫ কোটি টন পর্যন্ত এই ধরনের চিনি মহাজাগতিক বস্তুগুলোর মাধ্যমে পৃথিবীতে এসে পৌঁছাতে পারে।
গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি সম্পর্কে নতুন ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি মহাবিশ্বের অন্য কোথাও প্রাণের সম্ভাবনাকেও আরও জোরালো করেছে। যদি আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যম স্বাভাবিকভাবেই জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি করতে সক্ষম হয়, তাহলে গ্যালাক্সির অন্যান্য অঞ্চলেও একই ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাণের বিকাশ ঘটতে পারে।
এখন গবেষকদের পরবর্তী লক্ষ্য হলো আরএনএ ও ডিএনএ তৈরিতে ব্যবহৃত আরও জটিল চিনি, যেমন রাইবোজ ও ডিঅক্সিরাইবোজের সন্ধান করা। তাদের আশা, ভবিষ্যতের গবেষণা মহাবিশ্বে প্রাণের উৎপত্তি সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উন্মোচন করবে।























