ফিফা বিশ্বকাপ
ফ্রান্সকে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন
- প্রকাশঃ ১৪ জুলাই ২০২৬, ২১:০৯
- / 3
বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্টে নেমেছিল ফ্রান্স। তবে সেমিফাইনালে স্পেনের সংগঠিত ফুটবল, দৃঢ় রক্ষণ এবং কার্যকর আক্রমণের সামনে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছে লে ব্লুদের। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে স্পেন ২-০ গোলে জিতে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করে ফ্রান্স। ১৪তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপে দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে স্পেনের বক্সে ঢুকে পড়লেও শেষ মুহূর্তে পাও কুবারসি ও আয়মেরিক লাপোর্তের দুর্দান্ত রক্ষণে গোলের সুযোগ নষ্ট হয়।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় স্পেন। প্রথমার্ধের ২৩তম মিনিটে লামিন ইয়ামালকে ডি-বক্সে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে মিকেল ওইয়ারজাবাল গোল করে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইগনাঁ সঠিক দিকে ঝাঁপ দিলেও বল ঠেকাতে পারেননি।
গোল হজমের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আরেক বিপদে পড়ে ফ্রান্স। সেন্টার-ব্যাক উইলিয়াম সালিবা ইনজুরিতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তার বদলে মাঠে নামেন ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া।
বিরতির আগে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল স্পেন। দানি ওলমো, ফাবিয়ান রুইজ ও লামিন ইয়ামালের সমন্বিত আক্রমণে ফ্রান্সের রক্ষণ বারবার চাপে পড়লেও ব্যবধান আর বাড়েনি। অন্যদিকে এমবাপের একটি সম্ভাবনাময় সুযোগ নষ্ট করে দেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন।
দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য ধরে রাখে স্পেন। ৫৮তম মিনিটে দানি ওলমো ও পেদ্রো পোরোর দারুণ বোঝাপড়ার পর আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোলটি আসে। পোরো গোল করে স্পেনের ব্যবধান ২-০ করেন।
তিন মিনিট পর লামিন ইয়ামাল বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, তিনি শেষ ডিফেন্ডারের চেয়ে সামান্য এগিয়ে ছিলেন।
ম্যাচের শেষ দিকে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স। এমবাপে, থিও হার্নান্দেজ ও ব্র্যাডলি বারকোলার একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন উনাই সিমন ও স্পেনের রক্ষণভাগ। কুকুরেয়াও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ব্লক করে দলকে স্বস্তি এনে দেন।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্পেন।
এই জয়ের ফলে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ফ্রান্সের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো শেষ চারের লড়াইয়েই।


























