ঢাকা ০৮:৪৫ , Fri, ১৭ Jul ২০২৬
বিশ্বসমাচার
আমেরিকা

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসানীতি আরও কঠোর করল আমেরিকা, পড়াশোনা শেষে দেশ ছাড়তে সময় মাত্র ৩০ দিন

নূজহাত নাছিম
  • প্রকাশঃ ১৭ জুলাই ২০২৬, ১৩:০৯
  • / 14
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভিসানীতি কার্যকর হতে যাচ্ছে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা–সংক্রান্ত বিধি আরও কঠোর করার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের বিশেষ অনুমতি না থাকলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না। পাশাপাশি পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর দেশ ছাড়তে বা অন্য ধরনের ভিসায় পরিবর্তনের জন্য সময় কমিয়ে ৬০ দিন থেকে ৩০ দিন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হবে। সরকারের ভাষ্য, ভিসার অপব্যবহার রোধ এবং নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন বিধি অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রোগ্রাম পরিবর্তন এবং এক বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ থেকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সুযোগও সীমিত করা হবে। এতদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেই শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষমতা ছিল। এতদিন এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা এবং জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীরা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ নীতির আওতায় পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারতেন। নতুন নিয়মে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, “দশকের পর দশক বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ একের পর এক কোর্সে ভর্তি হয়ে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে।”

যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করতে সাধারণত চার বছর সময় লাগে। তবে পিএইচডিসহ উচ্চতর গবেষণাভিত্তিক অনেক কোর্স শেষ করতে এর চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা, গবেষণার ফলাফল প্রকাশ, অর্থায়নের বিলম্ব কিংবা ব্যক্তিগত নানা কারণে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘায়িত হয়।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর বিদেশি শিক্ষার্থীদের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে অথবা অন্য ধরনের বৈধ ভিসায় পরিবর্তন করতে হবে। আগে এ জন্য ৬০ দিনের সুযোগ ছিল। শিক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস (নাফসা) নতুন এই নীতির সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি একে “ভুল সিদ্ধান্ত” এবং “অপ্রয়োজনীয়” বলে উল্লেখ করেছে।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ফান্টা আও বলেন, “নতুন এই নীতি দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরভাবে চলা একটি ব্যবস্থায় অযথা অনিশ্চয়তা, অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করবে। এটি এমন একটি সমস্যার সমাধান খুঁজছে, যার বাস্তবে অস্তিত্বই নেই।” ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানো এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা সীমিত করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেছেন এমন কিছু বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের উদ্যোগও নিয়েছে।

❤️
100%
👏
100%
🙂
100%
😞
100%

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসানীতি আরও কঠোর করল আমেরিকা, পড়াশোনা শেষে দেশ ছাড়তে সময় মাত্র ৩০ দিন

প্রকাশঃ ১৭ জুলাই ২০২৬, ১৩:০৯

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা–সংক্রান্ত বিধি আরও কঠোর করার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের বিশেষ অনুমতি না থাকলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না। পাশাপাশি পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর দেশ ছাড়তে বা অন্য ধরনের ভিসায় পরিবর্তনের জন্য সময় কমিয়ে ৬০ দিন থেকে ৩০ দিন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হবে। সরকারের ভাষ্য, ভিসার অপব্যবহার রোধ এবং নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন বিধি অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রোগ্রাম পরিবর্তন এবং এক বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ থেকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সুযোগও সীমিত করা হবে। এতদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেই শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষমতা ছিল। এতদিন এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা এবং জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীরা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ নীতির আওতায় পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারতেন। নতুন নিয়মে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, “দশকের পর দশক বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ একের পর এক কোর্সে ভর্তি হয়ে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে।”

যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করতে সাধারণত চার বছর সময় লাগে। তবে পিএইচডিসহ উচ্চতর গবেষণাভিত্তিক অনেক কোর্স শেষ করতে এর চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা, গবেষণার ফলাফল প্রকাশ, অর্থায়নের বিলম্ব কিংবা ব্যক্তিগত নানা কারণে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘায়িত হয়।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর বিদেশি শিক্ষার্থীদের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে অথবা অন্য ধরনের বৈধ ভিসায় পরিবর্তন করতে হবে। আগে এ জন্য ৬০ দিনের সুযোগ ছিল। শিক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস (নাফসা) নতুন এই নীতির সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি একে “ভুল সিদ্ধান্ত” এবং “অপ্রয়োজনীয়” বলে উল্লেখ করেছে।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ফান্টা আও বলেন, “নতুন এই নীতি দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরভাবে চলা একটি ব্যবস্থায় অযথা অনিশ্চয়তা, অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করবে। এটি এমন একটি সমস্যার সমাধান খুঁজছে, যার বাস্তবে অস্তিত্বই নেই।” ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানো এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা সীমিত করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেছেন এমন কিছু বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের উদ্যোগও নিয়েছে।